স্বরূপকাঠীতে চাঁদা না পেয়ে ইউপি সদস্যকে পেটালো বখাটে যুবকরা
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নে চাঁদা না পেয়ে ইউপি সদস্য মো. মুহিদ মাহামুদকে বেধড়ক পিটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় মো. সুজন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
বুধবার দুপুরে আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বসে সুজন ও তার সহযোগীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে মাটিতে ফেলে দেয়। এসময় স্থানীয় সাজেদা নামে এক দিনমজুর বৃদ্ধ নারী এসে ইউপি সদস্য মুহিদ মাহামুদকে বাঁচাতে ওই যুবকদের সামনে বুক পেতে দেয়। তাতেও ওই বখাটে যুবকরা না থেমে ওই বৃদ্ধ নারীসহ ইউপি সদস্য মুহিদকে বেধড়ক পিটিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মুহিদ মাহামুদ বাদী হয়ে নেছারাবাদ থানাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ইউপি সদস্য মুহিদ মাহামুদ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের একজন নেতা।
মারধরের সময় মুহিদ মাহামুদকে রক্ষা করতে আসা স্থানীয় প্রতক্ষ্যদর্শী বৃদ্ধ নারী সাজেদা বেগম বলেন, ঘটনার সময় তিনি পরিষদের সামনে গরুর ঘাস কাটছিলেন। এসময় তিনি দেখতে পান ইউপি সদস্য মুহিদকে সুজন ও কয়েকজন লোক মিলে কিল ঘুষিসহ লাথি মারতে মারতে পরিষদ থেকে বের করছেন। তিনি কাছে গিয়ে ওই যুবকদের নিষেধ করলেও মুহিদকে মারতে থাকে তারা। তারপর তিনি কোন কিছু ভেবে না পেয়ে মুহিদকে রক্ষা করতে যুবকদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। তখন তারা তাকে (বৃদ্ধ নারী) সহ মুহিদকে এলোপাথারি মারধর করে মুহিদের পকেট থেকে জোরপূর্বক কিছু টাকা বের করে নিয়ে চলে যায়।
স্থানীয় মো. এনামুল হক বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাজার থেকে বাড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন। এমন সময় তিনি দেখতে পান মুহিদকে বখাটে সুজনসহ কয়েকজন যুবক মারধর করছে। আর মুহিদের সামনে সাজেদা নামে এক বৃদ্ধ মহিলা দুই হাত মেলে যুবকদের থামানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তখন তিনি কাছে গিয়ে মেম্বার মুহিদকে মারার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা পাওনা টাকা ফেরৎ পাচ্ছেনা বলে মুহিদকে নাকি মারছেন।
ইউপি সদস্য মো. মুহিদ মাহামুদ অভিযোগ করেন, সুজনের ভাই কয়েকমাস পূর্বে ছাগল চুরি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল। তখন সুজন তার ভাইকে থানা থেকে ছাড়ানোর জন্য আমাকে তদবির করতে বলেছিল। আমি চেষ্টা করে তার ভাইদের তখন ছাড়াতে পারিনি। পরদিন সকালে সুজন কোন মাধ্যমে নাকি পুলিশকে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ভাইদের ছাড়িয়েছিল। এখন বেশ কয়েকদিন পর্যন্ত সেই টাকা আমার কাছে চাচ্ছে। আমি তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওরা আমাকে পরিষদ থেকে বের করে মারধর করেছে।
তিনি আরও বলেন, সুজন বড় ধরণের একজন মাদকসেবি। সর্বদা সে নেশা করে বেড়ায়। আমি এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। অভিযোগ দেয়ার পর থেকে সুজন আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
অভিযুক্ত মো. সুজন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি মেম্বর মুহিদের কাছে টাকা পাই। সেই টাকা চাওয়ার জন্য পরিষদে গিয়েছিলাম। এ নিয়ে একটু বাকবিতন্ডা হয়েছিল মাত্র।
