প্রধান সূচি

মোংলা থানার ওসির অপসারণের দাবীতে বাগেরহাটে মানববন্ধন

ধর্ষন চেষ্টা, হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় মামলা না নিয়ে উল্টো ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগ তুলে বাগেরহাটের মোংলা থানার ওসির অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সামনে ভুক্তভোগী মোংলা উপজেলাবাসীর ব্যানারে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এসময় ভুক্তভোগী ফাতেমা আক্তার, নাসিমা বেগমসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ন্যায় বিচারের জন্য মানুষ পুলিশের কাছে যায়। কিন্তু ধর্ষন চেষ্টা, হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় মামলা না নিয়ে মোংলা থানার ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম দুর্বৃত্তদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

এসময় ভুক্তভোগী ফাতেমা আক্তার বলেন, গত ৯ মার্চ বাড়িতে কেউ না থাকায় পাশর্^বর্তী মো. জলিল মাতুব্বর (৪৫) ধর্ষনে ব্যর্থ হয়ে শরীরের গোপন স্থানে কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে। আমার ডাক  চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পালিয়ে যায় জলিল মাতুব্বর। ঘটনার আধা ঘন্টা পরেই জলিল মাতুব্বরের ছেলে আমির মাতুব্বরসহ ৭/৮ জন সন্ত্রাসী দলবদ্ধ হয়ে আমার বাড়িতে বেআইনীভাবে প্রবেশ করে। তারা ঘরের চালাসহ ঘরের ভিতরের মালামাল ভাংচুর করে। তারা আমাকে হত্যা করবার উদ্দেশে দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে ৯৯৯ এ ফোন করলে মোংলা থানার এসআই রমজানসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আমাকে উদ্ধার করে। পুলিশ ও স্থানীয়রা আমাকে দ্রæত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মোংলা ২৫০ বেড শয্যা হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেদিনই ধর্ষন চেষ্টা ও হামলার মামলা নিয়ে মোংলা থানায় যায় আমার পরিবারের সদস্যরা। তবে মামলা না নিয়ে থানা থেকে বের করে দেন মোংলা থানার ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম। পরে একাধিকবার মামলার জন্য মোংলা থানায় গেলেও ওসি বিষয়টি আমলে  নেয়নি। এমতাবস্থায় আমি নিরুপায় হয়ে বাগেরহাট পুলিশ সুপার মহোদয়ের শরনাপর্ণ হই। তাতে  মোংলা থানার ওসিআরো  ক্ষিপ্ত হয় এবং আমাকে বলে ‘তুই কতো মামলা খেতে পারিস আমি  ডোজে ডোজে তোকে দিব’। পরে গত ৩১ মার্চ খুলনা সিটি মেয়রের লিখিত সুপারিশ নিয়ে গেলে অভিযোগ রাখে পুলিশ। তার পরে গত দেড় মাস অতিক্রম হলেও মামলাটি নথিভুক্ত করেনি পুলিশ। এখন আমাদের মামলা না নিয়ে মোংলা থানার ওসি আজিজুল ইসলামের হস্তক্ষেপে আমি ও আমার স্বামী মিজানুর রহমান, বোন পারভিন বেগম, ভগ্নিপতি কাওসার আকন, খালাতো ভাই শিমুল ও পারভেজকে জড়িয়ে আদালতে মানব পাচারসহ ৪টি মিথ্যা দায়ের করেন। আমরা বাড়িতে যেতে পারি না, অত্যন্ত অসহায় জীবনযাপন করছি।

ওসি আজিজের অত্যাচার ও মামলার ভয়ে ২১টি পরিবার বাড়িতে ঠিকভাবে বসবাস করতে পারছে না। সে যদি আমাদের মেংলায় থাকে তাহলে আমাদের ২১টি পরিবার মাটির সাথে মিশে যাবে। তারা মোংলা থানার ওসি কেএম আজিুল ইসলামের দ্রæত অপসারন দাবি করেন।

মোংলা থানার ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম নানা অনিয়ম, দুর্নীতির সাথে জড়িত বলে অভিযোগ করে তার বিরুদ্ধে দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানানো হয় মানববন্ধনে।

এ বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজিজুল ইসলাম বলেন, আমি তাদেরকে মামলা দেওয়ার জন্য থানায় আসতে বললেও তারা আসেনি। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial