বিদেশী জাহাজে চাকুরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ : অভিযোগে আটক-১
বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজে চাকুরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনার মামলায় আদম পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা আ. গফুর ওরফে পানি গফুরকে আটক করেছে মোংলা থানা পুলিশ।
প্রতারক গফুর আটকের ঘটনায় এলাকার ভুক্তভোগীদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। আটককৃত গফুরের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিদেশে আদম পাচার, জালজালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া দলিলপত্র করে অপরের জায়গা-জমি দখল ও বিভিন্ন জনের নামে সরকারী নানা দপ্তরে ভুয়া অভিযোগ পাঠিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানী করার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, মোংলা পৌর শহরের সামছুর রহমান সড়কের বাসিন্দা আ. গফুর নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশী জাহাজের ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দিয়ে বিদেশী জাহাজে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। আদম পাচারকারী গফুর গত ২৬ জুন বাগেরহাটের বারাকপুরের তহমিনা বেগমের ছেলে তাওহীদ হাসানকে মাসিক দেড় লাখ টাকা বেতনে বিদেশী জাহাজে চাকুরী দেওয়ারর কথা বলে ষ্ট্যাম্পের মাধ্যমে সাড়ে ৬লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। টাকা নেওয়ার ২০ দিনের মধ্যে হাসানকে জাহাজে চাকুরিতে দিবেন বলেও আশ্বাস দেন গফুর। কিন্তু নিধার্রিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর ভুক্তভোগী তহমিনা তার ছেলে হাসানকে নিয়ে গত ১৬ জুলাই গফুরের কাছে গেলে গফুর চাকুরি ও টাকা ফেরত দিবেন না বলে উল্টো হুমকি-ধামকি এবং ভয়ভীতি দেখান। পরে এ ঘটনার প্রতিকারে তহমিনা বেগম বাদী হয়ে আদম পাচারকারী প্রতারক গফুরের বিরুদ্ধে গত ১৯ জুলাই বাগেরহাট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার গ্রেফতারী পরোনায় শুক্রবার দুপুরে আসামী গফুরকে সামছুর রহমান রোডের তার নিজ বাড়ী থেকে আটক করেছেন পুলিশ।
এদিকে আদম পাচারকারী গফুর জালজালিয়াতি দলিল দিয়ে অপরের বাড়ীঘর দখল ও অহেতুক মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানী করায় এলাকার ভুক্তভোগীরা স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেছেন। গফুর নিজেকে বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজের ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দিয়ে জাহাজে চাকুরি দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে মোংলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মোংলা বন্দরে বিদেশী সামুদ্রিক জাহাজে চাকুরি দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে তৎপর রয়েছে। এ আদম পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা গ্রেফতারকৃত গফুর।
এছাড়া জাল দলিলপত্র তৈরি করে এলাকার বিভিন্নজনের বাড়ীঘর দখল, হামলা, লুটপাট ও মারপিটের ঘটনায় গফুরের বিরুদ্ধে মোংলা থানায় মামলাও রয়েছে। অপরদিকে পুলিশের খুলনার ডিআইজি কার্যালয়ে তার কোন এক নিকটআত্মীয় রয়েছেন এমন দোহাই দিয়ে সরকারী কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরের মিথ্যা অভিযোগ প্রেরণসহ নানাভাবে হুমকি-ধামকি ও হয়রানীর একাধিক অভিযোগ রয়েছে এ আদম পাচারকারী গফুরের বিরুদ্ধে।
এদিকে, পুলিশ গফুরকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওযার পথে তার ছবি তোলার সময় সাংবাদিকদেরকে তিনি গালিগালাজ করাসহ দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন।
এ বিষয়ে মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুউদ্দীন বলেন, বাগেরহাট আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানায় গফুরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতকে শনিবার আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানান তিনি।
