প্রাইভেটের টাকা আদায়ের জন্য ছাত্রকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শিক্ষকের !
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় সঠিক সময়ে প্রাইভেটের টাকা দিতে না পারায় ছাত্রের মুঠো ফোন আটকে রেখে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে আহাম্মাদুল কবির নামে এক শিক্ষক। গত শনিবার ওই শিক্ষক নিজ বাসায় কোচিং সেন্টারে বসে ওই শিক্ষার্থীকে ‘শুয়ারের বাচ্চা’ বলে অসংখ্যবার গালিগালাজ করেন। এসময় কোচিং সেন্টারের অপর এক শিক্ষার্থী শিক্ষকের ওই গালিগালাজের দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। সোমবার রাতে মোবাইল ফোনে ধারণকৃত গালিগালাজের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি মধ্য করফা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। তিনি করফা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে তাতে বসবাস করাসহ কোচিং সেন্টার খুলেছেন। সেখানে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ মাধ্যমিক স্তরের বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ান। প্রাইভেটের টাকা দিতে না পারা হত দরিদ্র ওই শিক্ষার্থী গুয়ারেখা ইউনিয়নের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণির শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীর বাবা একজন অতি হত দরিদ্র লোক বিধায় শিক্ষার্থী লেখাপড়ার পাশাপাশি কৃষানের কাজ করে নিজ খরচে পড়াশুনা করে চলছে।
অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে শিক্ষক আহাম্মাদুল কবির বলেন, ওই শিক্ষার্থীর কাছে দুই মাসের প্রাইভেটের এক হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। অসংখ্যবার টাকা চেয়ে পাচ্ছিনা। তাই রাগের বশত: গালিগালাজ করেছি। প্রাইভেটের টাকার আদায়ের জন্য ছাত্রকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা ঠিক কিনা.. জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাই ভাল ব্যবহার করে টাকা চাইলে ব্যাজের কেউ সঠিক সময়ে টাকা দিতে চায়না। তাই বাধ্য হয়ে ছাত্রের মোবাইল আটকিয়ে গালিগালাজ করেছি।’
হত দরিদ্র ওই শিক্ষার্থী বলেন, স্যারের কাছে মাসিক ৫০০ টাকার বিনিময়ে প্রাইভেট পড়ি। আমার বাবা একজন কৃষক। আমাদের আর্থিক সমস্যা আছে। আমার বাবা আমার লেখাপড়ার খরচ দিতে পারে না। তাই লেখা পড়ার ফাকে আমি গ্রামে কাজ করে নিজের পড়ার খরচ জোটাই। সামনে পরীক্ষা তাই একটু বোজার জন্য স্যারের কাছে ব্যাজে প্রাইভেট পড়া শুরু করেছি। কয়েক মাস ঠিক সময়ে টাকা দিয়ে আসছিলাম। বর্তমানে কাজ ব্যাজ নেই। তাই স্যারকে ঠিকমত টাকা দিতে পারছিনা। স্যারকে আমার সমস্যার কথা বলেছি। স্যার তারপরও সেদিন সবার সামনে বসে আমাকে মাত্র সাতশত টাকার জন্য শুয়ারের বাচ্চা সহ যা ইচ্ছে তাই বলে গালিগালাজ করেছে। সে আমার কাছে গত মাসের বকেয়া দুইশত এবং গেল এক মাসের পাচশত টাকাসহ মোট ৭০০ টাকা পায়।
সরকারি স্বরূপকাঠি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম তালুকদার বলেন, প্রাইভেট পড়ার বেতনের টাকা আদায়ের জন্য একজন শিক্ষক কোনভাবেই এরকম অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে পারেন না। এটা শিক্ষক জাতির জন্য লজ্জাজনক। এ জঘন্যতম কার্যকলাপের জন্য নিন্দাসহ তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এহেন নিন্দনীয় কাজের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছি।
