স্বরূপকাঠীতে প্রতিপক্ষের হাত থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে ঘুষির আঘাতে দাত হারালেন পিতা
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার সারেংকাঠিতে প্রতিপক্ষের হাত থেকে ছেলেকে বাঁচাতে এসে ঘুষির আঘাতে দাত হারালেন মো. দেলোয়ার হোসেন (৫৩) নামে এক শ্রমজীবি পিতা। একইসাথে প্রতিপক্ষরা ওই অসহায় পিতার বাম হাতের পেশিতে ইট দিয়ে থেতলি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে সারেংকাঠি মহিলা মাদ্রাসার পাশে বসে প্রতিবেশি সাইফুল, বাবু, হাসান এ কান্ড ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা একই গ্রামের কালাম মৃধার ছেলে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় এখন উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গুরুতর আহত দেলোয়ার হোসেন নেছারাবাদ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহতের পরিবার পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
হাসপাতালে ভর্তি আহত আনোয়ার হোসেন মৃধা অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার ছোট ছেলে শাহরিয়ার সচ্ছ (১৬) এর কপালে কালাম মৃধার ছোট ছেলে হাসান (১৮) গুলোন বাস (ছটকা) দিয়ে একটি ইটের টুকরো মারে। এতে তার ছেলে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে হাসানকে জিজ্ঞাসা করে। কপালে আঘাত করার কৈফিয়ত চাওয়াতে উল্টো তার ছেলেকে হাসান মারধর করলে তিনি ও তার স্ত্রী সেলিনা ছুটে আসেন। সাথে সাথে হাসানের ভাই সাইফুল, বাবু তেড়ে এসে আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী সেলিনাকে বেদম মারধর করে। একপর্যায়ে আমাকে সজোরে ঘুষি দিলে একটি দাত ভেঙ্গে মুখ থেকে রক্তের স্রোত বের হয়ে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়ি। এসময় প্রতিপক্ষরা ইট দিয়ে আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে রাস্তায় ফেলে দিয়ে চলে যায়। পরে স্বজনরা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে এনে ভর্তি করে।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্তরা বলেন, উল্টো তারা আমাদের মারধর করেছেন। আমরা কেবল আত্মরক্ষার্থে তাদের সরিয়ে দিয়েছি।
নেছারাবাদ থানার দায়িত্বরত উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মনির বলেন, এ ব্যাপারে দেলোয়ার হোসেন থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পেয়ে তাদের আগে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বলেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
