প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠীতে প্রকাশনীর লোভনীয় ডোনেশনের মোহে পড়ে নোট-গাইড বই বাণিজ্যের অভিযোগ

স্বরূপকাঠী উপজেলায় নীরবে অবৈধ নোট-গাইড বই বানিজ্যের প্রসার ঘটাচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের কিছু অসাধু শিক্ষকরা। প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধিদের দেওয়া লোভনীয় ডোনেশন মোহে পড়ে সংগঠনের গুটি কয়েক নেতাদের কর্তৃত্বেই স্বরূপকাঠী থেকে রোধ হচ্ছেনা নোট-গাইডের রমরমা ব্যবসা বলে অভিযোগ অভিবাভকসহ বিভিন্ন জনের।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকাশনীর প্রতিনিধিরা তাদের প্রকাশিত নোট-গাইড বই পাঠ্য করতে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছেন শিক্ষক সংগঠনের অসাধু কিছু শিক্ষকদের সাথে। সুযোগে ওইসব শিক্ষকেরা বেঁকে বসে সর্বোচ্চ ডোনেশন চাচ্ছেন প্রকাশনীর প্রতিনিধিদের কাছে। বিদ্যালয়ে নোট-গাইড বই পাঠ্য করতে শিক্ষক সংগঠনের মনোনীত সংখ্যাগরিষ্ঠ অসাধু শিক্ষকদের ম্যানেজ করে কৌশলে যেনতেন নোট-গাইড পাঠ্য করার রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। গুঞ্জন রয়েছে ইতোমধ্যে আল-ফাতাহ, জুপিটারসহ কয়েকটি প্রকাশনীর প্রতিনিধিরা তাদের প্রকাশিত নোট-গাইড পাঠ্য করতে বৈঠকও করেছেন ডোনেশনের ব্যাপারে। তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষকরা। একই সাথে উপজেলার বিভিন্ন কিন্ডার গার্ডেন ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছু অখ্যাত প্রকাশনীর প্রতিনিধিরা তাদের প্রকাশিত নোট-গাইড বই পাঠ্য করতে ধর্না দিয়ে যাচ্ছেন কিছু শিক্ষক নেতাদের কাছে। নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন বই বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দেওয়া প্রকাশনা সংস্থার বই তালিকা অনুযায়ী সংগ্রহ করতে হয়। এসব বইয়ের একটি নির্ধারিত কমিশন দিতে হয় তালিকা প্রস্তুতকারী শিক্ষকদের।
স্বরূপকাঠী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, সরকারি নির্দেশনার বাইরে যদি কেউ নোট-গাইড বই বিদ্যালয়ে পাঠের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অসাধু ওই গুটি কয়েক শিক্ষক টাকার বিনিময়ে তাদের মত করে নোট-গাইড বই মনোনীত করে ক্লাশের অন্যান্য শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রচারনা চালাচ্ছেন। যে কারনে এ উপজেলা থেকে কিছুতেই রোধ হচ্ছেনা নোট-গাইডের ব্যবসা। উপজেলার গত কয়েক বছরের এ ধারা অব্যাহত রেখে ফের নতুন বছর আসতে না আসতেই শিক্ষক সংগঠনের নেতারা শুরু করেছেন নোট-গাইড বই প্রকাশনীর প্রতিনিধিদের সাথে ডোনেশনের আলাপ-আলোচনার বৈঠক। যে প্রকাশনী যত বেশি ডোনেশন দিতে পারবেন তাদের গাইড সিলেক্ট করে বলে দেওয়া হয় উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের। বেশ কয়েকটি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রকাশনীর কাছ থেকে মোটা অংকের ডোনেশনের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করায় অভিভাবকরা চড়া দাম দিয়ে তাদের নির্ধারিত গাইড কিনে চলছেন। তাই আবারও নতুন বছর আসতে না আসতেই ফের চিন্তায় পড়েছেন বিশেষ করে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial