পিরোজপুরে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন ও মায়ের ৭ বছর কারাদন্ড
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় মিলন বাহাদুর নামে এক যুবককে হত্যা ও লাশ গুম করার দায়ে একই পরিবারের মা ও ছেলেকে কারাদন্ড দিয়েছে জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এর মধ্যে হত্যার দায়ে ছেলেকে যাবজ্জীবন এবং লাশ গুম করার দায়ে মায়ের ৭ বছর কারাদন্ডাদেশ দেয় আদালত।
দন্ডপ্রাপ্তরা হল- জেলার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার সোহাগদল গ্রামের মো. সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী মোসা: রেহানা বেগম ও ছেলে মো. তাজিম।
হত্যার দায়ে তাজিমকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড এবং লাশ গুম করার দায়ে তাজিমের মা রেহানাকে ৭ বছর কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পিরোজপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মজিবুর রহমান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় রেহানা উপস্থিত থাকলেও তার ছেলে তাজিম পলাতক রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রæয়ারী বিকেলে উপজেলার বয়ারহুলা মোটর সাইকেল ষ্ট্যান্ড থেকে তাজিম ও এক যুবক ভিকটিম মিলন বাহাদুরের ভাড়ায়চালিত মোটর সাইকেল ভাড়া নেয়। পরে মিলন ওই দিন রাতে বাড়ি না ফেরায় মিলনকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকে তার পরিবার। এ সময় তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ থাকে। ১২ ফেব্রæয়ারী নেছারাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন নিহত মিলনের বাবা শাহাদত বাহাদুর। এর দুইদিন পর তাজিমদের বাড়ির ল্যাট্রিনের সেফটিক ট্যাংকের মধ্য থেকে মিলনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মিলনকে হত্যার পর তাজিম তার মায়ের সহযোগিতায় লাশ গুম করেছিল।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা শাহাদাত বাহাদুর ৫ জনকে আসামী করে নেছারাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ তদন্ত করে ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সাক্ষ্য প্রমানে দু’জনকে আদালত ওই সাজা দেন এবং অন্য দু’জনকে খালাস দেন।
মামলায় আসামী রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আকন ও আসামী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল কবির বাদল।
