ভ্রাম্যমান আদালাতে জেলা-জরিমানা : জব্দকৃত জেল নিলামে বিক্রি
পিরোজপুরে ৩ হাজার লিটার জ্বালানী তেল জব্দ
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়া উপজেলায় প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনীর পৃথক অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ রাখা অবস্থায় ৩ হাজার ৬০ লিটার জ্বালানী জেল জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় এক ব্যবসায়ীকে ১৪ দিনের কারাদন্ড এবং অপর এক ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়া জব্দকৃত তেল সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর শিয়ালকাঠী ফকির বাড়ির মোড় এলাকায় তানভির এন্টারপ্রাইজের একটি গুদাম থেকে ৯৫০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) উজ্জল হালদার এবং ভান্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান।
ভান্ডারিয়া থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে তানভির এন্টারপ্রাইজের গুদামে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ রাখা ডিজেল জব্দ করা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের মালিক সিদ্দিক হাওলাদার জব্দকৃত তেলের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তা জব্দ করা হয় এবং ভ্রাম্যমান আদালতে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তিনি আরও জানান, বুধবার সকাল ১১টার দিকে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে প্রতি লিটার ডিজেল ৯৬ টাকা ৩৯ পয়সা দরে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে তেল বিক্রি করা হয়। নিলামে অংশ নিয়ে বায়জিদ এন্টারপ্রাইজ ও ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ ডিজেল ক্রয় করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) উজ্জল হালদার জানান, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করা দন্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মঠবাড়িয়া উপজেলার হাসপাতাল রোড এলাকার আমিরুল অয়েল সাপ্লাইয়ার্স এর স্বত্বাধিকারী শামীম হাসান খান নামে এক তেল ব্যবসায়ীর নিজ বাড়ি থেকে মজুদকৃত ১ হাজার ৬৮৩ লিটার ডিজেল, ১২০ লিটার পেট্রোল, ২৬৩ লিটার কেরোসিন এবং ১০ লিটার অকটেন উদ্ধার করা হয় জব্দ করা হয়। এসময় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদের দায়ে শামীম হাসান খানকে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দকৃত তেলের মূল্য ২ লাখ ৫ হাজার ২৬৪ টাকা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শামীম হাসান খান তার দোকানে তেলের সংকট দেখালেও নিজ বাসভবনের কয়েকটি রুমে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত করে রেখেছিলেন। খবর পেয়ে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আকলিমা আক্তার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী ওই বাসভবনে অভিযান চালায়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকলিমা আক্তার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় শামীম হাসানের বাসভবনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি তেলের মজুদ উদ্ধার করি। অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই জনবসতিপূর্ণ এলাকায় দাহ্য পদার্থ মজুত করে বড় ধরনের অগ্নিকান্ডের ঝুঁকি তৈরি করেছিলেন। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাকে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে এবং জব্দকৃত তেল নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।
