১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ মামলা : তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড
পিরোজপুর সদর উপজেলায় ১৩ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় আদালত একজনের যাবজ্জীবন ও দুইজনের ১৪ বছর কারাদন্ড দিয়েছে।
সোমবার বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু ধর্ষণ অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পিরোজপুরের বিচারক এস এম মনিরজ্জামান এ রায় দেন।
মামলার প্রধান আসামী মিলন সেখকে ধর্ষণের অপরাধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়। অন্য দুই আসামী অলী গাজী ও মারুফ গাজীকে কিশোরী ভিকটিমকে অপহরণের অপরাধে প্রত্যেককে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায় ৩ মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।
আসামীরা হলেন- নাজিরপুর উপজেলা চৌঠাইমহল এলাকার বেলায়েত শেখের ছেলে মিলন শেখ (২৮), পিরোজপুর সদর উপজেলার সিকদারমল্লিক এলাকার মৃত আকতার গাজীর ছেলে অলী গাজী (২৪) এবং নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া এলাকার সাহেব গাজীর ছেলে মারুফ গাজী (২৫)।
ভিকটিম সনাতন ধর্মী ১৩ বছরের কিশোরী সদর উপজেলার পশ্চিম কদমতলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৩ মার্চ ভিকটিম নাজিরপুরের চৌঠাই মহল এলাকায় মামাবাড়ী থেকে পিরোজপুর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে আসলে দুই আসামী অলি গাজী ও মারুফ গাজী তাকে অপহরণ করে শহরতলীর কৃষ্ণনগর এলাকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে তারা খুলনায় মিলন শেখের কাছে পৌঁছে দিলে মিলন বিয়ের নাটক সাজিয়ে মুসলিম বানিয়ে গোপালগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ২০ থেকে ২২ দিন আটকে রেখে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে কিশোরীটি সুযোগ পেয়ে পাশের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নিয়ে তার বাড়ীতে বাবাকে ফোন করলে পুলিশ গিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে। পরে তার বাবা মনোজ সিংহ বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় একটি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
