প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠীতে শিক্ষক স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় শিক্ষক স্বামীর ধারাবাহিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এক শিক্ষিকা এমন অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা নাজমুন আখতার হাসি দীর্ঘদিন ধরে স্বামী মো. মিজানুর রহমান মিলনের নির্যাতনের শিকার হয়ে চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। উপজেলার সোহাগদল ইউনিয়নে আলকিরহাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান মিলন উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ৭০নং পাটিকেল বাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। অপরদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা নাজমুন আখতার হাসি সারেংকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক স্বামীর নির্যাতনের ভয়ে এবং সামাজিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে ওই শিক্ষিকা থানায় অভিযোগ জানাতেও সাহস পাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অনেকের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে হতাশায় যেকোন সময় চরম সিদ্ধান্ত বা আত্মহননের পথও বেছে নিতে পারেন তিনি।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা নাজমুন আখতার হাসি অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবা-মা বা বড় কোনো ভাই নেই। আমাকে পছন্দ করে মিজানুর রহমান মিলন বিয়ে করে। সংসারে একটি সন্তান হওয়ার পর থেকেই নির্যাতন শুরু হয়। বর্তমানে আমার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। সে আমাকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং বিভিন্ন কারণে মারধর করে। সারাদিন অনলাইন জুয়ায় মেতে থাকে। গত ১০ মার্চ সকালে সে আমার গায়ে হাত দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাকে জিম্মি করে ব্যাংক থেকে আমার ডিপিএসসহ বেতন থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ঋণ উঠিয়ে নিয়েছে। এখন সেই ঋণ আমার বেতন থেকেই পরিশোধ করছি। আমার কিছুই নেই, তবুও সব সহ্য করে যাচ্ছি। আমি বাচতে চাই।
শিক্ষিকা আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী মিলন তার সৎ বোনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন এবং তাকে বিয়ে করার চেষ্টা করছেন। আমি কিছু বললেই আমাকে মারধর করে। তারা সবাই মিলে আমাকে পাগল প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। কেউ বাসায় এলে স্বামী, বাসুর ও দেবর মিলে আমাকে পাগল বলে। তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘আমি বাঁচতে চাই’।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক মিজানুর রহমান মিলন। তিনি বলেন, ‘সব মিথ্যা। আমার স্ত্রী পাগল।’ তবে পাগল হলে আপনার স্ত্রী চাকরি করেন কীভাবে? এমন প্রশ্নে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, ওই নারী যদি সত্যিই স্বামীর দ্বারা নির্যাতিত হয়ে থাকেন, তবে তিনি থানায় না এলেও আমরা তাকে আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please follow and like us:


« (পূর্ববর্তি সংবাদ)



উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial