নাজিরপুরে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভা
আল্লামা সাঈদী হত্যার বিচারের দাবিতে ‘দাঁড়িপাল্লায়’ ভোট চাইলেন মাসুদ সাঈদী
পিরোজপুরের নাজিরপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে নাজিরপুর উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এ জনসভার আয়োজন করা হয়।
নাজিরপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আলহাজ্ব মাওলানা শেখ আব্দুর রাজ্জাক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ সাঈদী।
তিনি বলেন, ১৯৭১ থেকে ২০২৬ এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আমরা ৫৪ বছর পার করেছি। এই দীর্ঘ ৫৪ বছরে বাংলাদেশের মানুষের যে স্বপ্ন ছিল, বাংলাদেশের মানুষ বাংলাদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিল, যে লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, বাংলাদেশ যেভাবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার কথা ছিল তার কোনটিই হয়নি। বারবার নির্বাচন এসেছে, জনগণ আশা করে বিভিন্ন দল ও তাদের নেতাদের ভোট দিয়েছেন কিন্তু জনগণ তাদের কাঙ্খিত দেশ পাইনি। জনগণকে মূল্যায়ন করা হয়নি বরং আমরা দেখেছি ৫৪ বছরে যে বা যারা ক্ষমতায় এসেছেন তারা তাদের নিজেদের কপাল এবং পকেটের উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি, দেশের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি। এমনকি জনগণের যে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন ছিল সেই স্বপ্ন পূরণে তারা কাজও করেনি। কোন কোন দল কেউ ৫ বছর কেউ ১০ বছর কেউ ১৫ বছর একাধারে ক্ষমতায় থেকেছেন। উন্নয়নের স্বপ্ন আর গল্প আমাদের শুনিয়েছেন। সেই গল্প আর স্বপ্ন শুধুই ছিল কথার কথা, কিন্তু বাস্তবে সেগুলি ছিল না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, যদি আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দয়া করেন, তাহলে আমরা এই এলাকায় কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করতে চাই, যে কাজগুলো শুরু করেছিলেন আল্লামা সাঈদী। যে কাজ শুরু করার কারণে, আল্লামা সাঈদী এই পিরোজপুরে উন্নয়নে ভূমিকা রাখার কারণে তাকে কোন কোন দলের কোন কোন নেতারা পথের কাঁটা মনে করে পরিকল্পিতভাবে ১৩ বছর কারাগারে আটক রেখেছিলেন। শুধু আটকে রেখেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। আল্লামা সাঈদীর মত একজন বিশ্ববিখ্যাত আলেম যিনি কোরআনের পাখি নামে সারা পৃথিবীতে পরিচিত, সেই মানুষটিকে তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমরা আল্লামা সাঈদীর হত্যার বিচার চাই। যদি আল্লামা সাঈদী হত্যার বিচার আপনারা চান তাহলে আপনাদেরকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট সেন্টারে যেতে হবে। আমি একটি মার্কা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। মার্কাটির নাম দাঁড়িপাল্লা। এই মার্কাটি আল্লামা সাঈদীর মার্কা, কারণ ১৯৯৬ সালে আল্লামা সাঈদী সর্বপ্রথম যে নির্বাচন করেছিলেন। সেই নির্বাচনে আল্লামা সাঈদী দাঁড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছিলেন। ২০০১ সালে তিনি যখন আবার নির্বাচন করেন ওই নির্বাচনেও তিনি দাড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছিলেন। একইভাবে ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি দাড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছিলেন। আপনারা আল্লামা সাঈদীর দাড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী আল্লামা সাঈদীর হত্যার বিচারের জন্য আপনারা দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিবেন।
