ভোট চুরি, ইঞ্জিনিয়ারিং এর চেষ্টা করলে হাত ভেঙ্গে দেওয়া হবে, কাউকে ছাড় দেবনা : ডা. শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর হত্যার বিচারের জন্য দাড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে। বিগত জালিম সরকার কোরআনের পাখি সাঈদীকে কারাগারে আটকে রেখে তার উপর অমানুষিক নির্যাতন করে তাকে কারাগারের মধ্যেই হত্যা করেছে। তাই এ হত্যার বিচার করতে হবে।
তিনি ইনসাফের রাষ্ট্র কায়েম করতে হলে দাড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে। কেননা আমরা আর পুরোনো বন্দোবস্তে ফিরে যেতে চাই না। রাজার ছেলে রাজা হোক, এই সিষ্টেম আর আমরা চাই। আমরা রাজা হতে চাই না, আমরা জনগণের সেবক হতে চাই। তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা চাই জনগণের বিজয়, আমরা চাই জুলাই আন্দোলনের ছাত্র-জনতার বিজয়।
শুক্রবার বিকেলে পিরোজপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন অতীতের ১২টা নির্বাচনের মতো নয়, এই নির্বাচন সম্পূর্ন ভিন্ন একটি নির্বাচন। বিগত ১২টি নির্বাচনের মাধ্যমে দফায় দফায় বাংলাদেশকে পুরাতন বন্দোবস্তের মাধ্যমে যেভাবে খাবলে, খামচে, কামড়ে শেষ করে দেওয়া হয়েছিল, তা পরিবর্তন করে দেওয়ার নির্বাচন। নতুন বাংলাদেশ জাগিয়ে তোলার নির্বাচন, ৩৬ এর যোদ্ধাদেরকে সম্মান করার নির্বাচন, যুব সমাজের আকাঙ্খা পূরণের নির্বাচন, আমাদের মা- বোনদের গর্ভের প্রশান্তির ইজ্জতের নিরাপত্তার নির্বাচন, বেকারত্ব ঘোচানোর নির্বাচন, শিশুর আশ্রয়ের নির্বাচন, বাংলাদেশের কামার-কুমার-মুঠে-মাঝি-জেলে-তাঁতি-কৃষক আপামর জনগণের স্বপ্নের নির্বাচন। আগামী নির্বাচন চুরি করে বিদেশে পাচার করা ২৮ লক্ষ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনার নির্বাচন। এই বাংলাদেশে সুষম উন্নয়ন উপহার দেওয়ার নির্বাচন, আর কোন মামু-খালুর টেলিফোনে উন্নয়ন না হওয়ার নির্বাচন, ইনসাফের ভিত্তিতে উন্নয়ন হওয়ার নির্বাচন। যুবকদের হাতে মর্যাদার কাজ দেওয়ার নির্বাচন।
১২ তারিখের নির্বাচন জাতির দিক পরিবর্তনের নির্বাচন। আগামীতে বাংলাদেশ কোন পথে চলবে তার নির্বাচন। তাই এ নির্বাচনে দাড়িপাল্লার বিজয়ের পাশাপাশি হ্যাঁ ভোটকেও বিজয়ী করতে হবে। হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হলে দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হবে। কেউ আর ভোট চুরি করে, ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় যেতে পারবে না। হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হলে আর কেউ বলতে পারবে না যে- আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব। তখন যার ভোট সে দিতে পারবে, জনগণের ভোটের অধিকার ফিরে আসবে। আর আগামীতে কেউ যদি ভোট চুরি বা ইঞ্জিনিয়ারিং এর চেষ্টা করে তাহলে সেই হাত ভেঙ্গে দেওয়া হবে। আমরা তাদের ছেড়ে কথা বলবো না।
তিনি বলেন, এক আমলের ১০ টাকার চাল খেয়ে আমাদের যে পেটে ব্যাথা হয়েছে তা এখনও যায়নি। এখন আবার কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। এসব কার্ড বিতরণ একটা ধাপ্পাবাজি।
তিনি বলেন, একটি দলের লোকজন আমাদের মা-বোনদেরকে বিভিন্নভাবে অপমান করে চলছে। এই দেশ মুসলমানের দেশ, এই দেশে কি হেজাব পরা, নেকাপ পরা নিষেধ ? এই হেজাব, নেকাব পড়া নারীদের নেকাব খুলে ফেলতে চায় তারা। এটি একটি নোংরা কাজ। আর এসব করে তারা বাংলাদেশের মা- বোনদের ইজ্জত নিয়ে টানাটানি করছে।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে মা-বোনদের ইজ্জত হননকারী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজদের, আদিপাত্যবাদদের বিরুদ্ধে লালকার্ড দেখাতে হবে।
হাদিসহ আবু সাঈদ, মুগ্ধ জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছে তাদের হত্যার বিচার করার অঙ্গিকার করে তিনি হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, হ্যাঁ ভোট হবে ইনসাফের ভোট। হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী। আমরা আর গোলামী আর আধিপাত্যবাদ চাই না।
একজন সাধারণ মানুষ যদি অপরাধ করে তাদের যেমন শাস্তি হবে তেমনি প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, এমপি মন্ত্রী যেই হোক না কেন অপরাধ করলে তাদেরও একইভাবে বিচার হবে, আমরা আর কাউকে ছেড়ে দেবনা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের টাকা যারা লুটপাট করেছে তাদের মুখে হাত দিয়ে পেটের মধ্য থেকে সেই টাকা বের করে আনা হবে। আর সেই টাকা দিয়েই ইনসাফের ভিত্তিতে উন্নয়ন হবে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে বেকারদের কোন বেকার ভাতা দেওয়া হবেনা। বরং বেকারদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ দেওয়া হবে। তারা নিজেরা আয় করবে। আমাদের জুলাইযোদ্ধারা কেউ বেকার ভাতা দাবী করেনি, তারা দাবী করেছে তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন শ্রেণি পেশায় যারা কাজ করে তাদের সকলের বেতন আমরা সমান করে দিতে পারবো না, তবে যার যে মর্যাদা তার সেই মর্যাদা অনুযায়ী বেতন পাবে, যার সার্ভিস যতো ঝুঁকিপূর্ন তিনি হবেন তত বেশী সম্মানিত।
তিনি বলেন, এই জাতিকে আর আমরা কাউকে বিভক্তি করে দিবো না। ঐক্যবদ্ধ এক বাংলাদেশ, ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তুলবো আমরা। আগামী হবে জনগণের বিজয়। ১৩ ফেব্রুয়ারী একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই আমরা। আমরা আর কোন পারিবারিক গোষ্ঠি, দলীয় গোষ্ঠি চাই না। আমরা চাই বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণের এক বাংলাদেশ।
পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারী জহিরুল হকের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদ সাঈদী, পিরোজপুর-২ আসনের প্রার্থী শামীম সাঈদী, পিরোজপুর-৩ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির ডা. শামীম হামিদী প্রমুখ।
জনসভায় তিনি পিরোজপুরের ৩টি আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীদের হাতে দাড়িপাল্লা এবং ১০ দলীয় জোট প্রার্থীর হাতে শাপলাকলি তুলে দেন।
