প্রধান সূচি

ভবিষ্যতে যেন ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সেজন্য গণভোট : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ভবিষ্যতে যেন ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সেজন্যই গণভোট এর আয়োজন। যদি জনগণ মনে করেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে একটি নতুন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার দিকে দেশ এক ধাপ এগোতে পারে, তাহলে তারা সেই অনুযায়ী রায় দেবেন।
আজ সোমবার দুপুরে পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গণভোটের প্রচার এবং ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন নির্বাচনে শুধু প্রতিনিধি নির্বাচন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতেও জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য গণভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৪টি মৌলিক বিষয়কে একটি প্যাকেজ আকারে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে সম্মতি বা অসম্মতির মাধ্যমে জনগণ তাদের মত প্রকাশ করবেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীরা সংসদে গিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন এবং সরকার গঠন করবেন। তবে তারা জুলাই সনদের বিপক্ষে গিয়ে কাজ করার কোনো সুযোগ পাবেন না। জুলাই সনদই হবে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র ব্যবস্থার মূল ভিত্তি।
মৎস্য উপদেষ্টা আরও বলেন, গণ অভ্যুত্থানে যারা রক্ত দিয়েছে, আহত হয়েছে তাদের প্রতি আমাদের যে অঙ্গীকার তা থেকে আমরা ফিরতে পারবো না। শুধু একটা সরকার পরিবর্তনের জন্য জুলাই যোদ্ধারা রক্ত দেয়নি। বিগত সরকার স্বৈরাচারী সরকার ছিল না। তারা ছিল ফ্যাসিবাদী সরকার। তাদেরকে স্বৈরাচার বললে ভুল হবে। তারা জাতির উপর ফ্যাসিবাদী হয়ে গিয়েছিল। তারা ১৫ বছরে মানুষকে খুন করেছে, গুম করেছে, কাউকে ঘরে থাকতে দেয়নি, কথা বলতে দেয়নি তাদেরকে স্বৈরাচার বললে ভুল হবে।
তিনি বলেন, ৭২ এর সংবিধান অনেকবার কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। সেটি আর সংবিধান নেই। যার যখন প্রয়োজন হয়েছে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তাই হাঁ ভোটের মাধ্যমে আগামীতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে কোন সরকারকে এককভাবে সংবিধান সংশোধনের সুযোগ দেওয়া যাবে না এবং কাউকে স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী হতে দেয়া যাবে না। যে প্রার্থীরা সংসদে যাবেন এবং সংসদে গিয়ে সরকার গঠন করবেন এবং দেশের জন্য কাজ করবেন তারা জুলাই সনদের বিপক্ষে গিয়ে কাজ করার কোন সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীন পুলিশ কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগ ইতোমধ্যে অধ্যাদেশের মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে এবং এসব বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তফসিল ঘোষণার পর সরকার এসব বিষয়ে কথা বলতে পারবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ফরিদা আখতার বলেন, সরকার কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে প্রচারণা চালাতে আসেনি। এটি ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারের দায়িত্ব পালনের অংশ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুধু নির্বাচন আয়োজনের জন্য নয়, বরং আগামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা কেমন হবে- সে বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়ার লক্ষ্যেই কাজ করছে।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, সংবিধানে যেসব ধারা গণবিরোধী ছিল এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলো পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তবে সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে মৌলিক অধিকার বা ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে- এমন আশঙ্কার কোনো ভিত্তি নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পিরোজপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী, জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক পরীক্ষিৎ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা নির্বাচন অফিসার মো. আবদুল মান্নান।
সুধি সমাবেশে পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial