প্রধান সূচি

বাংলাদেশকে শোষণ-বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ইনসাফের রাষ্ট্রে গড়ে তুলতে হবে : মাসুদ সাঈদী

পিরোজপুর-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী’র ছেলে মাসুদ সাঈদী বলেছেন, ২৪ এর চেতনা এবং ৭১ এর চেতনায় উজ্জিবিত হয়ে আমাদের এই বাংলাদেশকে একটি শোষণ ও বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, ইনসাফের রাষ্ট্রে গড়ে তুলতে হবে। কেননা ৭১’ এর প্রকৃত চেতনা এবং ২৪ এর চেতনা একই চেতনা। কিন্তু আওয়ামী লীগ ৭১’ এর প্রকৃত চেতনাকে নষ্ট করেছে। তাই ২৪ পরবর্তী সময়ে ৭১ এর প্রকৃত চেতনা ও ২৪ এর চেতনাকে ধারণ করে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, পিআর পদ্ধতির নির্বাচন নিয়ে বিরোধিতা করছেন তারা পাগলের প্রলাপ বকছেন। তারা পিআর পদ্ধতি নিয়ে জনগণকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর কথা বলছেন। কেননা পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের মাধ্যমে একমাত্র দেশের সকল মানুষের প্রতিনিধিত্ব সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থায় মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়ে আসন সংখ্যাগরিষ্টতার ভিত্তিতে একটি দল সরকার গঠন করে দেশটা নিজেদের বাপ-দাদার মনে করে। অথচ সেখানে দেখা যায় দেশের ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ তাদের ভোটই দেয় নি। আর পিআর পদ্ধতিতে মানুষের ভোটের সংখাগরিষ্টতার ভিত্তিতে সরকার গঠিত হবে। তাতে যে দলই সরকার গঠন করবে তখন আর তারা সেটা মনে করতে পারবে না। দুর্নীতি করতে পারবে না, দেশ তখন স্বচ্ছাতার ভিত্তিতে, ন্যায়-নীতি ও জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হবে।
বুধবার দুপুরে পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পিরোজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রেসক্লাব সভাপতি এস এম রেজাউল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে ও সদস্য সরোয়ার হোসেন জুয়েলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় মাসুদ সাঈদী উপস্থিত সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ২৪ এর ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে, পিছিয়ে পড়া দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সকলকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। এজন্য আমি আপনাদেরসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
এসময় তিনি ২০২৪ গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পিরোজপু-১ আসনের পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলায় তার উদ্যোগে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, পিরোজপুর পৌরসভার ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো একটি পৌরসভা হলেও বিগ দিনে এখানে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বলতে কিছুই হয়নি। এখানে একক শাসনের নামে শোষণ করে জনগণের টাকায় উন্নয়ন না করে পকেট ভারী করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে। এখানে চলাচলের অনুপযোগী ৮ থেকে ১০ ফুট চওড়া রাস্তা রয়েছে, পয়:নিষ্কাশন ও ড্রেনেজের ভালো কোন ব্যবস্থা নেই। সুপেয় পানীয় জলের কোন ব্যবস্থা নেই, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, চরম দুর্দশায় মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই, ভালো কোন স্থাপনা নেই।
মাসুদ সাঈদী বলেন, আমি পিরোজপুর পৌরসভার উন্নয়নের কাজে ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়ার জন্য একটি স্কিম মন্ত্রণালয়ে জমা করেছি। অতি শীঘ্রই স্কিমের বরাদ্দ চলে আসবে। সুপেয় পানির ব্যবস্থার জন্য জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৬টি পাওয়ার প্লান্ট বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছি। এক একটি পাওয়ার প্লান্টে ৩ কোটি টাকা করে মোট ১৮ কোটি টাকার বরাদ্দ করিয়েছি।
পিরোজপুরে, নাজিরপুরে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ থাকলেও ইন্দুরকানীতে কোন টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ নেই। আমি তিন একর জমির উপর ইন্দুরকানিতে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছি। এর ফলে কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে মানুষের বেকার সমস্যার দূর হবে, কর্মের ব্যবস্থা হবে। ইন্দুরকানীতে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার ব্যবস্থা করেছি। উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পাওয়ার জেনারেটরসহ হাসপাতাল সংস্কার কাজে সাড়ে ৭ কোটি টাকার বরাদ্দ আনা হয়েছে। ইন্দুরকানীতে ৪ তলা বিশিষ্ট ডাকবাংলোর জন্য ১ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করানো হয়েছে। নাজিরপুর হাসপাতালে সংস্কারের জন্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করে ১০ লক্ষ টাকা, নাজিরপুর থানা সংস্কারের জন্য ৬ লক্ষ টাকার বরাদ্দ এনেছি। এছাড়া আমি আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের সকল ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে ও আমার প্রচেষ্টা ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড আরো বেগবান করতে চাই। এজন্য সকলে সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মাসুদ সাঈদী বলেন, বাংলাদেশের সর্ব্বোচ্য বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ ঢাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে বিজয়ী হয়েছে। এতে করেই বোঝা যায় যে তরুন প্রজন্ম তথা বাংলার মানুষ শোষণমুক্ত, নিপিড়ণমুক্ত, দুর্নতিমুক্ত ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা চায়। এই ঢাকসু নির্বাচনের বিজয়ের প্রভাব আগামীতে জাকসু, চাকসু, রাকসু নির্বাচনেও পড়বে। সেই সাথে এটি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ প্রভাব বড় একটা ভূমিকা রাখবে।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরা সদস্য ও পিরোজপুর জেলা শাখার আমীর বীর মুক্তিযোদ্ধা তাফাজ্জল হোসেন ফরিদ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হক, জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ হেল মাহামুদ, সহকারি সেক্রেটারি শেখ আব্দুর রাজ্জাক, পৌর আমীর মাওলানা ইছাহাক আলীসহ জেলা জামায়াতে ইসলাম ও অঙ্গ সংগঠনে নেতৃবৃন্দ এবং পিরোজপুরে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial