স্বরূপকাঠীতে কোটি কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করে আত্মগোপনে যাওয়ার পথে উত্তম মিস্ত্রী
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় একধিক সমবায় সমিতির লাইসেন্স নিয়ে কোটি কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করে লাপাত্তা হওয়ার পথে জলাবাড়ী ইউনিয়নের আতা গ্রামের উত্তম মিস্ত্রী। সমিতির টাকায় নিজ পরিবার পরিজনের নামে সম্পদের পাহাড় গড়ে এখন আত্মগোপনে যাওয়ার পায়তারা করছেন তিনি। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হাসান রকি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
ইতোপূর্বে উপজেলা থেকে ৫০টির মত সমিতি এভাবে বেআইনি ডিপিএস সংগ্রহ করে আত্মগোপনে গেলেও কার্যকরি কোন পদক্ষেপ নেইনি সংশ্লিষ্ট কোন দপ্তর। উত্তম মিস্ত্রী এককালীন, মাসিক, সাপ্তাহিক ও দৈনিক ভিত্তিতে গ্রামের বেকার শিক্ষিত লোকদের মাঠকর্মী পদে নিয়োগ দিয়ে তাদের মাধ্যমে ওই আমানত সংগ্রহ করেছেন। ৬ বছরে দ্বিগুণ টাকা দেওয়া হবে এমন প্রলোভনে পড়ে নেছারাবাদ উপজেলা ও পাশ্ববর্তী ঝালকাঠি উপজেলা থেকে সাধারণ দিনমজুর মানুষসহ অবসরপ্রাপ্ত চাকুরিজীবিরা আমানত রেখে প্রতিনিয়ত টাকা চাইতে এসে টাকা না পেয়ে চোখের পানি ফেলছেন। উত্তম মিস্ত্রী নানা অজুহাত দেখিয়ে টাকা না দিয়ে কেবল মাসের পর মাস সময় নিচ্ছেন পাওনাদারের কাছে। সম্প্রতি পাওনাদরদের চাপে তিনি সমিতির ৭টি ব্রাঞ্চ পিরোজপুরের এক ব্যক্তির কাছে মালিকানা হস্তান্তর করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে পাওনাদাররা আরো শঙ্কিত হয়ে উঠেছেন।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. হাসান রকি বলেন, উত্তম মিস্ত্রী সমবায় অফিসের নিবন্ধন নিয়ে আতা বহুমুখি সমবায় সমিতি করেছেন। তিনি সমবায় সমিতির নামে আইন না মেনে যা ইচ্ছে তা করছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তাই আমাদের পিরোজপুর থেকে নিবন্ধনকৃত আতা বহুমুখি সমবায় সমিতির নিবন্ধন বাতিল করে দিয়েছি। বাকিগুলো আমাদের পিরোজপুর থেকে নিবন্ধন নেয়নি।
তিনি আরো বলেন, শুনেছি উত্তম মিস্ত্রী ২২৮ কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করেছেন। তার নামে-বেনামে অনেক সম্পদ রয়েছে।
আতা গ্রামের উত্তম মিস্ত্রী নেছারাবাদ উপজেলার বিএআরডিবি অফিসে মাঠ সহকারি হিসাবে চাকরি করেন। মাঠে লোনের টাকা সংগ্রহে গিয়ে একসময় নেছারাবাদ সমবায় অফিসের মাধ্যমে পিরোজপুর সমবায় অফিস থেকে নিবন্ধন নিয়ে আতা বহুমুখি সমবায় সমিতি নামে একটি সমিতি খোলেন। সমিতি খুলেই কিছু বেকার শিক্ষিত লোকদের সমিতিতে নিয়োগ দিয়ে নানা অংকের আমানত সংগ্রহ করেন সমিতিতে। ‘৬ বছরে দ্বিগুণ’ তার এমন প্রলোভনে পড়ে শত শত লোক ওই সমিতির সদস্য হয়েছেন। সমিতির নিয়োগ প্রাপ্ত মাঠকর্মীদের মোটা অংকের কমিশন বিনিময়ে অবসরপ্রাপ্ত চাকুরিজীবিদের কাছ থেকে এককালীন ডিপোজিট সংগ্রহে তাগাদা দিতেন। তার সমিতিতে গরীব দিনমজুর, কৃষক লোকেরা এককালীন, মাসিক ও সাপ্তাহিক আকারে নির্দিষ্ট মেয়াদে টাকা রেখে এখন কিছুই পাচ্ছে না।
উপজেলা সমবায় অফিস সূত্রে জানা গেছে, উত্তম মিস্ত্রী আতা বহুমুখী সমবায় সমিতি, প্রাইম মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ লিমিটেড, সোনার বাংলা জনকল্যাণ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি এবং এমআর এর সনদ নিয়ে শ্যামলছায়া ফাউন্ডেশন নাম মোট ৪টি সমিতি পরিচালনা করছে। সমবায় আইনে বেআইনি ডিপিএস ও আমানত সংগ্রহসহ নানা অনিয়মের কারণে ইতিমধ্যে আতা বহুমুখী সমবায় সমিতির নিবন্ধন বাতিল করেছে উপজেলা সমবায় সমিতি। এছাড়া প্রাইম মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ লিমিটেড, সোনার বাংলা জনকল্যাণ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি আদালত বন্ধ করে দিলে তিনি একটি রিট দায়ের করে পূনরায় ওই সমিতি দুইটি পরিচালনা করে আসছেন।
মানুষের আমানত সংগ্রহ করে মেয়াদ শেষে টাকা ফেরৎ না দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তম মিস্ত্রী বলেন, আমার মাঠে অনেক টাকা ছাড়া আছে। তারা টাকা দিচ্ছেনা, তাই মানুষের আমানত দিতে পারছিনা।
সমিতির টাকায় ব্যক্তিগত আলিশান বাড়ি, কয়েশত একর জমি, কার্গো জাহাজ গড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমিতির টাকায় করছি। এখন সমস্যা হচ্ছে বিধায় সম্পদ বিক্রি করে দিব। সমিতির মালিকানা অন্যের কাছে হস্তান্তর করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমার রাইট আছে। তাই আমি করেছি।
