মোড়েলগঞ্জে ধান ক্ষেতে ওষুধ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বসতবাড়ি ভাংচুর : আহত-৩
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে ধান ক্ষেতে পোকা নিধনের ওষুধ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংর্ঘষে এক কৃষকের বসতবাড়ি ভাংচুর এবং মহিষ ও গরু লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় উভর পক্ষের ৪ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে গুরুত্বর আহত ২ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ৪টি গরু ও ৪টি মহিষ উদ্ধার করেছেন।
জানা গেছে, শনিবার উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মধ্যে আমুরবুনিয়া গ্রামের মৃত কৃষক সরোয়ার হাওলাদারের ১৫ বিঘা ফসলী জমির মৎস্য ও ধান ক্ষেতে পোকা দমনের জন্য তার ছেলে শামিম হাওলাদার ও বাপ্পি হওলাদার ওষুধ প্রয়োগ করে। এতে চুক্তিতে মৎস্য ঘের রাখা মোশারেফ হাওলাদারের মাছ মরে যাওয়ার অভিযোগ এনে বাকবিতান্ডার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে মারপিটে মোশারেফ হালাদার আহত হয়। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে মোশারেফ হাওলাদারের লোকজন উত্তোজিত হয়ে ৩০/৪০ জন কৃষক সরোয়ার হোসেনের বসতবাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাংচুর করে গোয়ালে থাকা ৪টি মহিষ ও ৪টি গরু লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় হামলাকারীরা সরোয়ারের স্ত্রী, সুফিয়া বেগম (৫০), তার প্রতিবন্ধি বোন জুলেখা বেগম (৬০) এলোপাতারি পিটিয়ে আহত করে। এদের মধ্যে গুরুত্বর আহত সুফিয়া বেগমকে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে, অপরপক্ষের মোশারেফ হাওলাদার গুরুত্বর জখম হয়ে প্রথমে মোড়েলগঞ্জ হাসপাতালে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেলে ভর্তি করা হয় বলে জানা গেছে।
ওই রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং গরু, মহিষ উদ্ধার করে।
আহত সুফিয়া বেগমের ছেলে শামীম হাওলাদার বলেন, হাড়ির (ইজারা) টাকা না দিয়ে মৎস্য ঘের করে আসছে মোশারেফ। প্রতিবাদ করায় লোকজন নিয়ে বসতবাড়ি ভাংচুর করছে। মাকে পিটিয়ে আহত করেছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।
এ বিষয়ে মোড়েলগঞ্জ থানা ওসি মো. মতলুবর রহমান বলেন, আমুরবুনিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংর্ঘষের ঘটনায় এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। গোয়াল থেকে নেওয়া গরু, মহিষ উদ্ধার করে কৃষককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
