ইন্দুরকানীতে মাদ্রাসার সভাপতি ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষক-কর্মচারীদের মানববন্ধন : ক্লাশ বর্জন
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে একটি মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বিলে স্বাক্ষর না করায় সভাপতি ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার ইন্দুরকানী এফ. করিম আলিম মাদ্রাসার এডহক কমিটি সভাপতি, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের ইসলামীর সেক্রেটারী মাওলানা মো. জহিরুল ইসলাম ও মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রিয়াজুল ইসলামের স্বেচ্ছাচারিতা ও খামখেলিপনার কারণে মাদ্রাসার সামনে মানববন্ধন করা হয়েছে। এছাড়া তারা একই দাবীতে ক্লাশ বর্জন ও করেছে।
মানববন্ধনে প্রভাষক মাওলানা ছরোয়ার হোসাইন বলেন, মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও শিক্ষক প্রতিনিধি প্রফেসর মো. অহিদুজ্জামান দুইজনে মিলে চলতি বছরের জুলাই মাসের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বিলে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে স্বাক্ষর নিতে যায়। তখন সভাপতি বলেন- আমি ও ঐ আল ফাতাহ প্রকাশনীরা মাদ্রাসায় ১৫ হাজার টাকা দিয়েছিলো সেই টাকা পরিশোধ না করলে আমি তোমাদের বিলে স্বাক্ষর করবো না। এই সংবাদ শুনে শিক্ষক-কর্মচারীরা হতাশ হয়ে পড়েন। বিলে স্বাক্ষর না করার কারণে শিক্ষক-কর্মচারীরা ক্লাস বর্জন করে। তারা মাদ্রাসার সামনে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষক-কর্মচারীরা সাংবাদিকদের লিখিত অভিযোগ করেন। নাম প্রকাশের অনুচ্ছিক অষ্টম শ্রেনির ছাত্রী জানান, আমরা অনেক দূর থেকে ক্লাসে এসেছি। শিক্ষকরা আমাদের ক্লাস না করে তারা মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলন করেন। আমরা ক্লাশ না করে সবাই বাড়িতে ফিরে যাচ্ছি।
প্রভাষক মাওলানা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গত বছরের ২৯ থেকে মাদ্রাসায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। তার অদক্ষতা অচ্ছতার, খামখেলিপনার কারণে প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদানে ব্যাহত হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, সভাপতি গতদিন বেতন বিলে স্বাক্ষর করেছেন। সে আমাকে বলছে ১৫ হাজার টাকা শিক্ষকরা আপনার কাছে দিলে তারপরে বেতন বিল ব্যাংকে জমা দিবেন।
ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি ও জামায়াত নেতা মাওলানা মো. জহিরুল ইসলাম ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি বেতন বিলে স্বাক্ষর দিয়েছি। ওই মাদ্রাসার সকল শিক্ষক-কর্মচারীরা বিভিন্ন খাতে অর্থ লুটেপুটে করে খায়। তারা কিভাবে মাদ্রাসার টাকা খাবে সেটা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। পড়াশুনার নামে কিছুই নেই। বই প্রকাশনী কোম্পানি মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য কিছু টাকা দিয়েছে সেই টাকাটাও তারা ভাগবাটোয়া করে খেয়েছে।
