প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠীতে অর্ধকোটি টাকার আমানত হাতিয়ে নিয়ে টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো গ্রাহকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ

পিরোজপুরের নেছারাবাদে (স্বরূপকাঠী) নৃপেন মন্ডল নামে জনৈক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সমিতি পরিচালকের পরিচয়ে অর্ধকোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করে টাকা ফেরত না দিয়ে গ্রাহকের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের গাজিয়া গ্রামের বেশ কিছু হতদরিদ্র, অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবি লোকের কাছে এককালীন ও মাসিক আমানত আকারে ওই টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা তাদের সঞ্চয়কৃত অর্থ চাইতে গিয়ে উল্টো নৃপেন মন্ডলের দায়ের করা লুটের মামলায় হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। কথিত সমিতি পরিচালক নৃপেন মন্ডলের মামলায় হয়রানী হয়ে তার বিরুদ্ধে সঠিক বিচারে দাবিতে ফুঁসে উঠছে এলাকাবাসী।
অভিযোগে জানা গেছে, গুয়ারেখা ইউনিয়নের গাজীয়া গ্রামের মৃত নগেন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে একসময় ঢাকায় একজন গামেন্টস শ্রমিকের কাজ করতেন। পরে গ্রামে এসে মাথায় তিলক পড়ে সাধু সাজেন সর্বত্র। এভাবে সবার আস্থা অর্জন করে হিন্দু অধ্যাষিত ওই এলাকায় নৃপেন মন্ডল হয়ে ওঠে সাধু। হঠাৎ করে উপজেলার আরামকাঠি সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির পরিচালক পরিচয়ে গ্রামের দিনমজুর থেকে শুরু করে অবসরপ্রাপ্ত চাকুরিজীবি লোকদের স্বপ্ন দেখিয়ে অর্ধকোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করে ফুলে ফেপে ওঠেন নৃপেন মন্ডল। কয়েক মাস পূর্বে ওই সমিতি লাপাত্তা হলে গ্রাহকের মামলায় জেলে যান কথিত সাধু নৃপেন মন্ডল। এসময় গ্রাহকদের ভয়ে নিজ বসতবাড়ীর মালমাল সরিয়ে গা’ঢাকা দেয় তার স্ত্রী। পরে নৃপেন মন্ডল জামিনে জেল থেকে বেরিয়ে বাড়িতে এলে গ্রাহকরা সবাই মিলে সঞ্চিত অর্থ ফেরৎ চায়। পরে দেনা থেকে রেহাই পেতে নৃপেন মন্ডল পিরোজপুর আদালতে ওই গ্রামের ইউপি সদস্য সুজিত বৈরাগীসহ ভুক্তভোগী গ্রাহকদের বিরুদ্ধে নিজ বসতঘর লুটের একটি মামলা দায়ের করেন। এখন প্রতারিত গ্রাহকরা সঞ্চিত অর্থ ফেরৎ পাওয়ার পরিবর্তে নৃপেনের দায়ের করা মামলায় হয়রানী হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী সবিতা মজুমদার (৬৫) নামে এক নারী বলেন, আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। বাড়িতে হাঁস মুরগী পালন করি। এছাড়া কৃষি কাজ করি। ওইসব কাজ করে আমার ছেলে এবং আমি নৃপেন মন্ডলের কাছে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জমিয়েছি। টাকা নেয়ার সময় সে বলেছে- আমার কাছে টাকা রাখছেন, মেয়াদ শেষে আমার কাছ থেকে বুঝে নিবেন। এখন টাকা ফেরৎ না দিয়ে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানী করছে।
ওই গ্রামের অর্নব ঠাকুর নামে এক যুবক বলেন, নৃপেন মন্ডল গ্রামের অনেক সহজ সরল মানুষদের বোকা বানিয়ে আনুমানিক অর্ধকোটি টাকা আমানত নিয়েছে। এখন তাদের টাকা ফেরৎ দিচ্ছেনা। এ নিয়ে আমাদের গ্রামের ইউপি সদস্য সুজিত মেম্বার সবার টাকা ফেরৎ দিতে নৃপেন মন্ডলকে অনুরোধ করেছে। এ কারণে তিনি মেম্বার সুজিতসহ গ্রাহকদের টাকা ফেরৎ না দিয়ে উল্টো তাদের নামে একটি মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। এর সঠিক বিচার দরকার।
ইউপি সদস্য সুজিত কুমার বৈরাগী বলেন, নৃপেন একটি সমতি পরিচালক পরিচয়ে গ্রামের মানুষদের ভুল বুজিয়ে আনুমানিক অর্ধকোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করে ফেরৎ দিচ্ছেনা। গ্রামের সবাই আমার কাছে এ নিয়ে নালিশ করেছে। আমি নৃপেন মন্ডলকে টাকা ফেরৎ দিতে বলেছিলাম। পরে তিনি মানুষদের পাওনা টাকা ফেরৎ না দিয়ে আমাকেসহ পাওনাদারদের বিরুদ্ধে আদালতে ঘরবাড়ী লুটের একটি মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে নৃপেন মন্ডল বলেন, ইউপি মেম্বারসহ বেশ কিছু লোক আমার ঘরবাড়ি লুট করেছে। তাই আমি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি। আমি কোন সমিতির পরিচালক নই। আমি ওই সমিতিতে বেতনে চাকরি করেছি। মালিক জেলে, আমি কি করবো।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. হাসান রকি বলেন, এখনে আমার কিছু করার নেই। ভুক্তভোগীরা নৃপেন মন্ডলকে আসামী করে আদালতে মামলা দিলে তখন বিষয়টি দেখবো।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial