প্রধান সূচি

ফিরে দেখা রক্তাক্ত জুলাই আন্দোলন

আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সাহসী সৈনিক সাংবাদিক সাঈদ খান

আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছিল ২০২৪ সালের জুলাই -আগস্ট আন্দোলন। এসময় দেশব্যাপী সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নানা কর্মসূচি পালন করেছে। পিছিয়ে ছিলো না পেশাজীবি সংগঠনগুলো।
ফ্যাসিবাদবিরোধী সাংবাদিক সংগঠনগুলো ছাত্রলীগ ও পুলিশের নির্যাতনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ছিলেন সোচ্চার। ওই সময় দেশবরেণ্য বিবেকবান সাংবাদিকরা ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস ও প্রেরণা দিয়ে যাচ্ছিলেন। যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান। যিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথের পাশাপাশি লেখনি ও কন্ঠস্বরের মাধ্যমে আওয়ামী সরকারের নিপীড়ন ও গণহত্যার বিষয়ে বিশ্ববাসীকে অবহিত করেছিলেন।
সাঈদ খান শুধু একজন পেশাদার সাংবাদিকই সীমাবদ্ধ নন, বরং তিনি এগিয়ে জাতির প্রয়োজনে, সংকট ও ক্রান্তিলগ্নে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আওয়ামী নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সদাজাগ্রৎ। আপোষ করেননি কখনও অন্যায়ের সাথে। যখন আওয়ামী সরকার সাংবাদিকদের কন্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে চালিয়ে ছিলেন দমন-পীড়ন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে কালো আইন, তখনও তিনি নানা ভয়ভীতি, হামলা ও মামলা হুমকি উপেক্ষা করে পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে গেছেন। স্বৈরাচার হাসিনা আইনের অপপ্রয়োগ করে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল সাংবাদিক কলম, সাংবাদিক সাঈদ খান ছিলেন এই নগ্ন চরিত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার।
জুলাই-আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নির্যাতন ও নিপীড়নের সংবাদ প্রচার নিয়ে নিয়ে যখন অনেক মিডিয়া লুকোচুরি করছিলো, তখন সাংবাদিক সাঈদ খান ওই আন্দোলনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছিলেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। যে কারণে ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই মধ্যরাতে ঢাকার মগবাজারের বাসা থেকে আইন শৃংখলা বাহিনীর সাদা পোশাকধারীরা তাকে তুলে নিয়ে চালান অমানুষিক নির্যাতন। তার বিরুদ্ধে দেওয়া হয় মেট্রোরেল অগ্নিসংযোগের মামলা। তার কন্ঠস্বরকে চিরতরে থামিয়ে দিতে রিমান্ডের নামে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আওয়ামী সরকারের আইন শৃংখলা বাহিনী। তখন এ ঘটনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র ভাষায় নিন্দা জানায়।
এসময় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, আন্দোলনের প্রকৃত ঘটনা জাতি ও বিশ্ববাসীর সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য সাংবাদিক সাঈদ খানকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
তবে আওয়ামী ফ্যাসিজমের দমন-পীড়ন তাকে থামাতে পারেনি। বরং নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েও তিনি মিডিয়ার ওপর সরকার ও আওয়ামী লীগের ক্রমাগত সেন্সরশীপ ও টুটি চেপে ধরার প্রবণতার বিরুদ্ধে লড়াই ও সংগ্রাম করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। এর পরে জেল থেকে বের হয়ে সাঈদ খান বিচরণ করছেন মিডিয়ার জগতে। তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন তার কার্যক্রম, মানবিক ও গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পক্ষে ও লেখালেখি করে যাচ্ছেন ফ্যাসিজম ও দেশ বিরোধী শক্তির বিপক্ষে। তিন সোচ্চার আছেন সাংবাদিক জগতের অনলাইন ও অফলাইন প্লাটফর্মে। নিয়মিত কলাম লিখছেন দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমে। টকশোতে আলোচনা করছেন দেশপ্রেম, মানবতা, গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেম লালন করেছেন তিনি নিজের কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে।
জুলাই বিপ্লবের চেতনার মধ্য দিয়ে তিনি সৃষ্টি করেছেন নতুন প্রজন্মের জন্য গণমুখী সাংবাদিকতা। তিনি প্রমাণ করেছেন সাংবাদিকতা যে শুধু একটি পেশা নয় বরং এটি ফ্যাসিবাদ ও অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আন্দোলনের প্লাটফর্ম। জুলাই-আগস্টের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকে তিনি কেবল রাজনৈতিক প্রতিরোধ নয়, বরং ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নৈতিক লড়াই’ হিসেবে দেখছেন। এভাবে তিনি হয়ে উঠেছেন নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের আইডল।
রাজনীতির বাহিরে থেকে পেশাজীবিরাও যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখতে পারে, সাংবাদিক সাঈদ খান তার বাস্তব উদাহরণ। জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সংবাদপত্র জগতে তিনি নিজেকে সৃষ্টি করেছেন একজন জীবন্ত কিংবদন্তি।
সাঈদ খান আজ শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি এক আদর্শ, এক প্রতিরোধের প্রতিচ্ছবি ও একটি প্রতিষ্ঠান। তার সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও সত্যের সঙ্গে অঙ্গীকার তাকে তৈরী করেছে হাজার হাজার সাংবাদিক ও লক্ষ কোটি গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রেরণা।
ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাঈদ খান হয়েছে হাজার হাজার রাজপথের মুক্তিকামী মানুষের আদর্শ। তার ত্যাগ, নিষ্ঠা ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তাকে জায়গা করে দিয়েছে এদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের যোদ্ধাদের হৃদয়ে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial