মোবাইল কিনে দিতে না পারায় অভিমানে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় এন্ড্রোয়েড মোবাইল ফোন কিনে দিতে না পারায় দীপা (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্রী ঘরের ভিতরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
রবিবার সকালে উপজেলার সমেদয়কাঠি ইউনিয়নের শশিদ গ্রামে মালি বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঝলন্ত লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। দীপা শশিদ গ্রামের মৃত দীনেষ মালীর মেয়ে এবং পাশ্ববর্তী শেখেরহাট কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী।
দীপার প্রতিবেশি চাচা সাগর মন্ডল জানান, দীপারা খুবই গরীব। দীপা কলেজের এ্যাসাইনমেন্টের জন্য তার ভাইকে একটা ফোন কিনে দিতে বলেছিল। রবিবার সকালে ওর মা ভাই জমিতে কাজে যায়। সকাল ১০টার দিকে বাড়ি এসে দীপাকে ঘরের ভিতরে ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় পান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীপা বেশ কিছুদিন ধরে কলেজের এ্যাসাইনমেন্টের জন্য তার পরিবারকে একটি মোবাইল ফোন কিনে দেয়ার জন্য বায়না ধরে আসছিল। করোনাকালীন স্কুল বন্ধ থাকায় প্রায়ই কলেজের এ্যাসাইনমেন্ট জমা দেয়ার জন্য দীপা ফোনের জন্য মা ভাইকে বলে আসছিল। তার পরিবার খুবই অভাবি হওয়ায় ফোন কিনে দিতে পারছিল না। একপর্যায়ে দীপা রাগান্বিত হয়ে আবারও গত শনিবার রাতে ফোনের জন্য পরিবারকে চাপ দেয়। এতে তার মা তাকে গালমন্দ করে ফোন দিতে পারবেনা বলে জানিয়ে দেয়। রবিবার সকালে দীপার মা ঘর থেকে কাজে বের হয়। সকাল ১০টার দিকে ঘরে এসে তারা দীপাকে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত পান।
নেছারাবাদ থানার ওসি তদন্ত মো. সোলাইমান মেয়েটির মায়ের বরাত দিয়ে জানান, মেয়েটির পরিবার খুবই গরীব। সে স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেনীর ছাত্রী। কলেজে তার পরীক্ষার এ্যাসাইনমেন্টের জন্য শনিবার রাতে মাকে ফোন কিনে দেয়ার জন্য বলেছিল। তার মা ফোন কিনে দিতে না পেরে মেয়েকে বুঝিয়ে বলে রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে তার মা জমির পেঁপে ক্ষেতে মাটি দেয়ার জন্য বের হয়। পরে বাড়ি এসে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচানো মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে ডাক চিৎকার দেন।
