ইন্দুরকানীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ ॥ চাঁদা না দেয়ায় হামলা
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে চাঁদা না দেওয়ায় হামলার শিকার হয়েছে ভূমিহীন পরিবার।
এ ব্যাপারে ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা রবিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ইন্দুরকানী থানার ওসির কাছে অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার গৃহহীন তিন শতাধিক পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যার কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে পাড়েরহাট আবাসন প্রকল্পে ৫৩টি ভূমিহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে সেখানে তারা বাস করছে। কিন্তু ওই আবাসনের প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুল ঘর পাওয়া একাধিক বাসিন্দাদের হুমকি দিয়ে ঘর প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করেছে। আর তার দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দিলে তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার রাতে ওই আবাসনের বাসিন্দা হেলাল মুন্সি ও তার স্ত্রীকে চাঁদার টাকার জন্য আবাসন প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল ও তার লোকজন মারধর ও লাঞ্চিত করে। এছাড়া চাঁদার টাকা দিতে না পারায় শিল্পি নামে এক বাসিন্দাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়। এভাবে সে ঘর দেয়ার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। আবাসনের বাসিন্দা হেলাল মুন্সি বলেন, আমার কাছ আবাসনের সেক্রেটারী প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাইয়ে দেয়ার জন্য ২০ হাজার টাকা দাবী করে। আমি ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। শনিবার রাতে তার লোকজন নিয়ে আবারও টাকা দাবী করে। আমি টাকা দিতে না পারায় আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারধর ও লাঞ্চিত করে।
আবাসন প্রকল্পের সভাপতি মোস্তফা মৃধা জানান, আবাসন প্রকল্পের সেক্রেটারী কাউকে তোয়াক্কা না করে অনেকের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মহাসীন হাওলাদার জানান, ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক আসাদুলের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
আবাসন প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুল চাঁদা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কোন প্রকার টাকা নেওয়া হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুনেসা খানম জানান, পড়েররহাট আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের ঘর নির্মানে চাঁদা নেওয়ার বিষয়ে তদন্ত টিম করা হয়েছে। সত্যতা প্রমান পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
