প্রধান সূচি

গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

নাজিরপুরে আয়রণ ব্রীজের মালামাল আত্মসাৎ করলো ইউপি চেয়ারম্যান

পিরোজপুরের নাজিরপুরে আয়রণ ব্রীজের সরকারী লোহার মালামাল আত্মসাৎ করে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আর ব্রীজের এসব সরকারী মালামাল আত্মসাৎ করেছেন  উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বুলু। তিনি ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতির পদেও রয়েছেন।

আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার তারাবুনিয়া বাজারে ওই ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউনে থাকা আয়রণ ব্রীজের লোহার ৮৮০ কেজি মালামাল অবৈধভাবে তিনি বিক্রি করেন। ক্রেতা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গহরডাঙ্গা গ্রামের মৃত সিরাজ শেখের ছেলে ইস্রাফিল শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ক্রেতা ইস্রাফিল ব্রীজের উক্ত লোহার মালামাল ক্রয় করে একটি টমটম যোগে নিয়ে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে রওয়া করে বেলা ১১টার দিকে নাজিরপুর উপজেলার ভাইজোড়া বাজারে পৌঁছালে স্থানীয় অমিত হাসান, সুজন ইসলাম ও রিয়াদ হোসেন মালামালসহ টমটমটি আটক করে। তারা তিনজনই জানান, আটক করার পর ইস্রাফিল মালামালগুলো চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বুলু’র কাছ থেকে ১৯ হাজার ৬০০ টাকায় ক্রয় করেছেন বলে জানান। তখন ইস্রাফিল মুঠোফোনে বিষয়টি চেয়ারম্যানকে অবগত করলে চেয়ারম্যান সেখানে গিয়ে ওই তিনজনসহ আরো অনেকের উপস্থিতিতে মালামালগুলো বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন এবং মালামালসহ ইস্রাফিলকে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেন।

খবর পেয়ে নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন মিয়া ও মাটিভাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে হাজির হন। তখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বুলু’র সামনেই ইস্রাফিল মালামালগুলো চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ক্রয় করার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। তবে প্রশাসনের কাছে মালামালগুলো বিক্রি করার ব্যাপারে কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি চেয়ারম্যান। পরে উত্তেজিত জনতা প্রশাসনের সামনেই বিক্ষোভ করে বিভিন্ন শ্লোগানের মাধ্যমে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিচার দাবী করেন। এসময় উপজেলা প্রকৌশলীর সহায়তায় পুলিশ ওই মালামালগুলো জব্দ করে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন মিয়া ও মাটিভাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ নুরুল ইসলামের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বুলুর কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি একেক সময় একেক ধরণের কথা বলেন। এক পর্যায়ে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি আলাদাভাবে তার প্রতিক্রিয়া জানাবেন।

নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুনিরুজ্জামান জানান, টমটমসহ মালামালগুলো পুলিশ জব্দ করেছে। জব্দকৃত ওই মালামাল ও ক্রেতা ইস্রাফিল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন মিয়া জানান, এ সকল মালামাল ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষণের রাখার যে নিয়ম-কানুন রয়েছে তা পালন করা হয়নি। তাছাড়া উপজেলা নিলাম কমিটির অনুমোদন ছাড়া সরকারী কোন মালামাল বিক্রির সুযোগ নেই। চেয়ারম্যান যা কিছুই করেছেন তা অবৈধ বলে প্রতিয়মান হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান জানান, সরকারী কোন মালামাল উপজেলা পরিষদের নিলাম কমিটির অনুমোদন ছাড়া বিক্রি করার সুযোগ নেই। চেয়ারম্যান সে নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে মালামালগুলো বিক্রি করেছেন। এ ঘটনায় সরকারের পক্ষে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial