ঘুর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডব
নাজিরপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ব্যাপক ক্ষতি
ঘুর্ণিঝড় আম্পানে প্রভাবে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৬ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘের ও পুকুর তলিয়ে যায়। উপজেলার অধিকাংশ মৎস্য ও প্লোট্রি খামারীদের খামার পানিতে ডুবে ঘেরে মাছ বের হয়ে এবং প্লোট্রি খামারীদের ঘরগুলো পানিতে তলিয়ে মুরগী মারা গিয়ে এ ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারীরা।
উপজেলার দেউলবাড়ী ইউনিয়নের বিল ডমুরিয়া গ্রামের প্লোট্রি খামারী কামাল ফকির জানান, বুধবার রাত ১০ টার দিকে তার মৎস্য ও মুরগীর খামার ঘর পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক চেষ্টা কররেও তিনি মুরগী বাঁচাতে পারেন নি। খামারের ঘর পানিতে তলিয়ে প্রায় ১ হাজার মুরগী মারা যায় এবং ঘেরের মাছগুলো পানিতে ভেসে যায়। সব মিলিয়ে তিনি প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
একই ইউনিয়নের খামারী মিজান গাজী জানান, ১০ বিঘা জমির উপর তিনি মাছ ও প্লোট্রি খামার করেছিলেন। ঘেরের প্রতিটি মাছ দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের হয়েছিলো। ঘুর্ণিঝড় আম্পানে তান্ডবে স্বাভাবিক ঘের তলিয়ে মাছগুলো বের হয়ে গেছে। এছাড়া প্রায় ৫ থেকে ৬শ’ মুরগী মারা গেছে। সব মিলিয়ে তিনি প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামের মৎস্যচাষী ফিরোজ মাহমুদ জানান, ওই রাতে তার মাছের ঘের পানিতে ঢুবে চোখের সামনেই ঘেরের মাছ বের হতে থাকে, অনেক চেষ্টা করেও তা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। সব মিলিয়ে তিনি প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি আরো জানান, ঘুর্ণিঝড় আম্পানে তান্ডবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৬ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার অধিকাংশ মৎস্য ও প্লোট্রি খামার তলিয়ে ঘেরের মাছ নদীতে বের হয়ে গেছে। এছাড়া মুরগীর ঘরগুলো ডুবে মুরগীও মারা যায়। এতে করে খামারীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতার হাত না বাড়ালে এ অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠা খামারীদের পক্ষে সম্ভব নয়।
উপজেলার মালিকালী ইউনিয়নের পেনাখালী গ্রামের মৎস্যচাষী টিপু সুলতান জানান, আম্পানের বুধবার রাতে তার ৮০ একর জমিতে থাকা মাছের ঘের ভেসে গিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুদেব সরকার জানান, ঘুর্ণিঝড় আম্পানে প্রভাবে এ উপজেলায় খামারীদের প্রায় ১১ হাজার মুরগী, ২ হাজার ৫৬৩ টি হাঁস, ১৫টি ছাগল ও ৬টি গরু মারা গেছে। এছাড়া ঘর ভেঙ্গে সব মিলিয়ে এ উপজেলার খামারীদের প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা গৌতম মন্ডল জানান, ঘুর্ণিঝড় আম্পানে প্রভাবে এ উপজেলায় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছের ঘেরগুলো ঢুবে মাছ নদীতে বের হয়ে গেছে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে খামারীদের সাথে কথা বলে যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে শুধু মৎস্য খাতেই এ উপজেলা প্রায় ৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
