প্রধান সূচি

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে তরমুজ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পিরোজপুরের চাষীরা

বিগত কয়েক বছর ধরে পিরোজপুর সদর উপজেলার চালিতাখালী গ্রামে কয়েক বছর ধরে চলে আসছিলো তরমুজের আবাদ। এ বছর কম জমিতে তরমুজ চাষ হলেও ভালো ফলনের আশায় বুক বেঁধেছিলেন চাষীরা। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে মাঠে তরমুজ কিনতে আসছে না ক্রেতারা। আর তাই এবার বড় ধরণের ক্ষতির আশংকা করছেন স্থানীয় চাষীরা। এদিকে, গত ২৭ এপ্রিল এই গ্রামে একজনের করোনা ভাইরাস পজেটিভ রোগী সনান্ত হওয়ায় তরমুজচাষীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্কও দেখা দিয়েছে।
খুব ভোর বেলা তরমুজ ক্ষেতে ছুটে যান পিরোজপুর সদর উপজেলার চালিতাখালী গ্রামের তরমুজ চাষী আজিজুল ইসলাম। এরপর ঢেকিকল দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা পা দিয়ে চেপে পানি তুলে সেচ দেন তরমুজ গাছে। পরিবারের সদস্যরা শরীক হয় এ কাজে। বর্তমানে তার ৩ বিঘা তরমুজ ক্ষেতে শোভা পাচ্ছে পরিপক্ক তরমুজ। যেগুলো আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিক্রি করতে পারবেন। এ সময় মুখে আনন্দের হাসি থাকার কথা থাকলেও, তরমুজ বিক্রি নিয়ে সংশয় থাকায় আজিজুলে চেহারায় হাসির পরিবর্তে রয়েছে বিষন্নতার ছাপ। একই রকম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছে ওই গ্রামের অন্যান্য তরমুজ চাষীরাও।
করোনাভাইরাসের কারণে দূর দূরান্ত থেকে পাইকারী ক্রেতারা পিরোজপুরে আসতে পারছেন না। এছাড়া বন্ধ রয়েছে সকল সাপ্তাহিক ও দৈনিক হাটগুলো বন্ধ থাকায় স্থানীয় পাইকারী ক্রেতারাও খুব একটা ভিড়ছেন না তরমুজ ক্ষেতে। আর এতেই বেড়েছে চাষীদের দুঃশ্চিন্তা। এছাড়া চালিতাখালী গ্রামের মধ্য দিয়ে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটির অবস্থাও খুব খারাপ। এতেও বেড়েছে চাষীদের ভোগান্তি।
বিভিন্ন এনজিও, ব্যাংক ও ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চাষীরা সেই টাকা ব্যয় করেছেন তরমুজ চাষের জন্য। তবে এ বছর তরমুজ বিক্রি করতে না পারলে পথে বসতে হবে এসব চাষীদের।

অন্যদিকে মাঠে তরমুজ থাকাকালীন সময়ে বৃষ্টি কিংবা অন্য কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে দুর্ভোগের কোন সীমা থাকবে না এসব চাষীদের। তবে সরকারী উদ্যোগে উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করা গেলে চাষীরা উপপকৃত হতো।

পিরোজপুর সদর উপজেলার চালিতাখালী গ্রামে এ বছর ৩০ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ করা হয়েছে। তবে গত বছর এই গ্রামে ১০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করা হলেও, ফলন খারাপ হওয়ায় এ বছর আবাদী জমির পরিমান কমেছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial