পিরোজপুরে কৃষকদের জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর যুগান্তকারী উদ্যোগ ॥ নিয়ে এসেছেন আধুনিক ধান কাটার মেশিন
করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পিরোজপুরের কৃষকদের জন্য এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি। তার নির্বাচনী এলাকা পিরোজপুর-১ আসনের দুটি উপজেলার কৃষকদের সুবিধার্থে ধান কাটার জন্য দুটি আধুনিক ধান কাটা ও মাড়াই যন্ত্র (কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন) সরকারীভাবে নিয়ে এসেছেন তিনি।
করোনার প্রভাবে চারিদিকে যখন শ্রমিক সংকটে চলমান বোরো ধান কাটা নিয়ে দুঃচিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা। ঠিক সেই মুহূর্তে নিজ নির্বাচনী এলাকার কৃষকদের জন্য স্বস্তিদায়ক পদক্ষেপ নিয়েছেন মন্ত্রী। তার অনুরোধে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় জেলার নাজিরপুর ও স্বরূপকাঠী উপজেলার জন্য ২টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়েছে। ওই মেশিন পেয়ে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে তা কৃষকদের মাঝে হস্তান্তর করেছেন মন্ত্রী।
কৃষি বিভাগের তত্বাবধানে এই হার্ভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার কাজও শুরু হয়েছে। ধান কাটার শ্রমিক সংকটের এই দুর্দিনে এমন প্রাপ্তিতে কৃষকদের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা।
করোনা মহামারির এই সময়ে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী বার বার তাগিদ দিয়েছেন। শ্রমিকের অভাবে সঠিক সময়ে ধান কাটতে না পারলে আমাদের কৃষক ও দেশের একটি বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। আর একারণে মন্ত্রী নিজ উদ্যোগে কৃষি মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে দ্রুত এ কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দুটি আনার ব্যবস্থা করেছেন।
কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন এক ঘন্টায় এক বিঘা জমির ধান কাটতে সক্ষম, এভাবে সারাদিন কাজ করলে দিনে ১০ থেকে ১২ বিঘা জমির ধান কাটা সম্ভব। শুধু ধান কাটা নয়, সাথে সাথে এটি ধান মাড়াই করে বস্তাবন্দি করতেও সক্ষম। স্বল্প খরচে এই মেশিন কৃষকদের ধান কাটার সময় বাঁচাবে, কষ্ট কমাবে। সর্বোপরি প্রয়োজনের সময় মাঠেই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির সুফল পাবেন কৃষকেরা।
পিরোজপুর-১ আসনের মানুষের জন্য করোনা মোকাবেলায় আরো অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন প্রাণিসম্পাদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। হাসপাতাল, পুলিশ লাইনস্ এ স্থাপন করেছে জীবাণুনাশক কক্ষ। ডাক্তারদের জন্য সেফটি চেম্বার, সকলের কাছে সেবা পৌছে দিতে টেলিমেডিসিন সেবা ও ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমসহ সরকারী সহায়তার পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে পিরোজপুরের ৩টি উপজেলায় ২৭ হাজার কর্মহীন অসহায় পরিবারসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। তার নির্বাচনী এলাকার গণমাধ্যম কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পিপিই প্রদানসহ দিয়েছেন আর্থিক অনুদান।
