প্রধান সূচি

পিরোজপুরে আরও তিন জন করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত ॥ আক্রান্ত এলাকা লকডাউন

পিরোজপুর জেলায় আরও তিন জন করোনায়ভাইরাস আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে। পিরোজপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. হাসনাত ইউসুফ জাকি এ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দুই জনের বাড়ি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের বাদুরা গ্রামে। অন্য একজনের বাড়ি ভান্ডারিয়া উপজেলার পৌর এলাকার জামিরতলা গ্রামে।
এর আগে সোমবার জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলায় একজন করোনায়ভাইরাস আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়। এ নিয়ে পিরোজপুর জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাড়ালো ৪ জনে।
পিরোজপুর সিভিল সার্জন ডা. মো হাসনাত ইউসুফ জাকি জানান, নতুন আক্রান্ত তিনজনের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এদের মধ্যে দু’জন নারায়নগঞ্জ থেকে এবং একজন ঢাকার সাভার থেকে পিরোজপুরে এসেছে।
তিনি আরও জানান, পিরোজপুর জেলা থেকে এ পর্যন্ত ৪২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সবগুলোই রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মোট ৪ জনের করোনা পজেটিভ।
পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, করোনা রোগী আক্রান্তের খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত ব্যক্তিদের এলাকায় গিয়েছেন। পিরোজপুর সদর উপজেলার বাদুরা গ্রামটি লকডাউন করা হয়েছে। ভান্ডারিয়ার জমিরতলা এলাকার ১৩টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের তাদের বাড়িতে হোম কোয়রেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তিরা যে সব স্থানে গিয়েছে সেটি চিহিৃত করে সেসব এলাকাও লকডাউনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
এদিকে, পিরোজপুর সদর উপজেলায় দুইজন করোনা আক্রান্ত রোগীর খবর পাওয়ায় উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বুধবার সকাল থেকে পিরোজপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় লোকজন বাঁশ দিয়ে লোকজন ও যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। পৌরবাজারের কাপুড়িয়া পট্টি, স্বর্নকার পট্টি, কলেজ রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় লোকজন ও যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে, পিরোজপুরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বুধবার দুপুরে জেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন।
সভায় করোনা পরিস্থিতির কারণে পিরোজপুর পৌরশহরের কাঁচা বাজার আপাতত বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কাঁচাবাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য ভ্যানে করে পাড়া মহল্লায় বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া মাছ ও মুদি বাজার প্রতিদিন ২ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলায় করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে সেখানে উপজেলা প্রশাসন আক্রান্ত এলাকার ১৩টি বাড়ি লকডাউন করলেও পরবর্তীতে পুরো এলাকাটি লকডাউন করার চিন্তাভাবনা করছে প্রশাসন।
এদিকে, পিরোজপুরে ৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হওয়ায় পুরো জেলা লকডাউন করার দাবী উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। তাদের দাবী, লোকজনকে ঘরে তাকতে বাধ্য করতে, শহর ও হাটবাজারগুলোতে লোকসমাগম এড়াতে এবং রিক্সা, ভ্যান, ইজিবাইকসহ চোট ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ করা অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial