নাজিরপুরে বাড়ছে করোনা আতঙ্ক ॥ হোম কোয়ারেন্টাইন মানছে না কেউ
প্রবাসীসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়নগঞ্জ, মাদারীপুর এবং দেশের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ করোনা আক্রান্ত এলাকা থেকে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা এসে অবস্থান করা ব্যক্তিদের মধ্যে কেউই হোম কোয়ারেন্টাইন নির্দেশনা মানছেনা। তারা পাড়া-মহল্লার দোকানপাটসহ হাট-বাজারে ঘোরাফেরা করছে কোন বাঁধা ছাড়াই। এমনকি জনাসমাগম এলাকাগুলো ছাড়াও আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে বেড়ানোর খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে, জেলা সদরে দু’জন, ভান্ডারিয়া একজন ও মঠবাড়িয়ায় একজনসহ জেলায় মোট ৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবরে নাজিরপুর উপজেলা জুড়ে করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বাইরে থেকে আগত ওইসব ব্যক্তিদের শৃংখলার মধ্যে আনা এবং হোম কোয়ারেন্টাইন মানার বিষয়টি নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ দায়সারা ভাবে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন মানার বিষয়টি নিশ্চিত করাসহ না মানলে প্রশাসনকে অবগত করার নির্দেশনা রয়েছে। তারপরেও অজ্ঞাত কারণে এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বহীনতা লক্ষ্য করা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলছেন, স্থানীয় গ্রাম পুলিশ, ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানগণ মিলে কিছুটা কঠোর ভূমিকা রাখলেই বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব। কিন্তু ভোট বা ভোটারের হিসেব মিলাতে গিয়ে তারা সেই ভূমিকাটুকু রাখছেন না।
আর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবী করা হচ্ছে, জনবল কম থাকার পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতি রোধ ও আক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে জনসচেতনতা সৃষ্টি, জনসমাগমরোধসহ বাজার মনিটরিং ও কর্মহীনদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করতে তাদের দিন-রাত ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। এসব কারণে তাদের পক্ষেও উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে হোম কোয়ারেন্টাইন মানার বিষয়টি নিশ্চিত করা অনেক কঠিন। তার পরেও তারা চেষ্টায় কোন ত্রুটি করছেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার পর্যন্ত উপজলার ৯টি ইউনিয়নে মোট ৭৩ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। এরমধ্যে উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নে ১৩ জন, দীর্ঘায় ৩ জন, শাখারীকাঠীতে ১৭ জন, সেখমাটিয়ায় ১৫ জন, শ্রীরামকাঠী ৮ জন ও কলারদোয়ানিয়ায় ১৭ জন। এদের মধ্যে অধিকাংশই হোম কোয়ারেন্টাইন না মেনে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ তালিকার বাইরেও আরো অনেকে করোনা আক্রান্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নারায়নগঞ্জ থেকে নিজ নিজ গ্রামে এসে কোন নিয়মনীতি না মেনেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এর মধ্যে দীঘিরজান এলাকায় দুই ট্রাক চালক, সদর ইউনিয়নের কুমারখালী এলাকায় তাবলিগ জামাত ফেরত, চিথলিয়া গাদেরহাট এলাকায় খুলনা থেকে একজন, কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে একজনসহ মালিখালী ও দেউলবাড়ী ইউনিয়নে কয়েকজন ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এসব ব্যক্তিদের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, তারা ওই সকল ব্যক্তিদের বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোন প্রতিকার পাননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, আমরা চেষ্টায় কোন ত্রুটি করছি না। হোম কোয়ারেন্টাইন না মানার সংবাদ পেলেই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এসব অভিযোগে বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজনকে জারিমানা করা হচ্ছে। সর্বপরি জনসাধারণ সচেতন না হলে প্রশাসনের পক্ষে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা অনেকটা কঠিন। এ সময় তিনি করোনা রোধসহ আক্রান্ত নিয়ন্ত্রণে নাজিরপুরবাসীর সহায়তা কামনার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা মেনে ঘরে থাকার আহবান করেন।
