পিরোজপুরে নমুনা পরীক্ষায় মেলেনি করোনা উপসর্গ
পিরোজপুর জেলায় সোমবার পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্তের কোন খবর পাওয়া যায় নি। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এ পর্যন্ত ২৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো করা হয়েছে বলে জানান পিরোজপুর সিভিল সার্জন ডা. হাসানাত ইউসুফ জাকি। এরমধ্যে ১৫ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এদের সকলের রিপোর্টই নেগেটিভ এসেছে। তার মানে এদের কেউই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন। সিভিল সার্জন আরও জানান, ২৯ জনের মধ্যে ১৪ জনের রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায় নি। তাদের রিপোর্ট এলে বাকীটা বলা যাবে। তিনি জানান, বর্তমানে পিরোজপুর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে করোনা পরীক্ষার যন্ত্র বসানো হয়েছে। তবে সেখানে প্রতিদিন মাত্র ২৪টি করে নমুনা পরীক্ষা করতে পারছে। তাই প্রেরিত নমুনার সবগুলো রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হচ্ছে।
বর্তমানে পিরোজপুরে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৫৫ জন এবং প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩২ জন।
সিভিল সার্জন ডা. হাসানাত ইউসুফ জাকি বলেন, পিরোজপুরে এখন সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয হচ্ছে নারায়নগঞ্জ ও ঢাকা থেকে আসা লোকজন। এদের মাধ্যমেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার আংশকা রয়েছে শতভাগ। তাই এসব লোকজনকে চিহিৃত করে তাদেরকে পুরোপুরিভাবে হোমকোয়ারেন্টান বা প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। তাদেরকে কোনভাবেই বাইরে বের হতে বা অন্য লোকজনের সংস্পর্শে আসতে দেয়া যাবে না। আর এ বিষয়টি নিশ্চিত না করতে পারলে পিরোজপুরে করোনাভাইরাস ছড়িতে যেতে পারে বলে তিনি দাবী করেন।
এদিকে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনী হাট বাজারে লোক সমাগম বন্ধ এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার লক্ষে কাজ করছে। পিরোজপুর জেলা শহরসহ প্রতিটি উপজেলায় ওষুধের দোকান ব্যাতিত অন্য সকল প্রকার দোকানপাট বিকেল ৫ টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। পুলিশ জেলার বিভিন্ন সড়কে চেকপোষ্ট বসিয়ে যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রন করছে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে এলে তাকে আইন শৃংখলা বাহিনী সদস্যদের কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। তবে এতো কিছুর পরেও হাট বাজারগুলোতে প্রতিদিনই মানুষের ভিড় বেড়েই চলছে। বাজার করতে আসা লোকজন মানছে না সামাজিক দুরত্ব। বেড়ে চলছে রিক্সা, ভ্যান, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহন চলাচল।
