প্রধান সূচি

৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা

করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মোট পাঁচটি প্যাকেজের আওতায় এই প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ৯ শতাংশ সুদে ৩০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শিল্প প্রতিষ্ঠান মালিক ৪.৫ শতাংশ ভর্তুকি এবং সরকার ৪.৫ শতাংশ ভতুর্কি দেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে সার্বিক পরিস্থিতি এবং তা মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশবাসীকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাৎক্ষণিক, স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়দী ও দীর্ঘমেয়াদী- এই চারভাগে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চারটি কার্যক্রম নিয়ে সরকারের কর্মপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এই চারটি কার্যক্রম হবে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করা, আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করা এবং বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ প্রদান করবে। এই ঋণ সুবিধায় সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। এর অর্ধেক অর্থাৎ  ৪.৫ শতাংশ ভর্তুকি হিসেবে সরকার ব্যাংকে প্রদান করবে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সহ মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা প্রণয়ন করা হবে। এখানেও ঋণের হার ৯ শতাংশ। প্রদত্ত ঋণের ৫ শতাংশ সুদ সরকার ব্যাংকে দেবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) এর সুবিধা বাড়ানো হবে। ব্যাক টু ব্যাক এলসির আওতায় কাঁচামাল আমদানির সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে ইডিএফের বর্তমান আকার ৩.৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। ফলে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অতিরিক্ত ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ইডিএফ তহবিলে যুক্ত হবে। এর সুদের হার কমিয়ে ২ শতাংশে নির্ধারণ করবো। প্রি শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিম নামে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণ সুবিধা চালু করবে। এই ঋণের সুদের হার হবে ৭ শতাংশ।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি ইতোপূর্বে রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ করার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি আপদকালীন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলাম। এই প্রণোদনাসহ মোট আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের পরিমাণ হবে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। যা জিডিপির ২.৫২ শতাংশ।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial