কঁচানদীর নাব্যতা রক্ষায় খনন কাজের উদ্বোধন করলেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
নদীর নাব্যতা রক্ষায় পিরোজপুরের কঁচানদীর অংশ বিশেষের খনন কাজ শুরু হয়েছে। সাবেক মন্ত্রী ও পিরোজপুর-২ আসনের (কাউখালী-ভান্ডারিয়া-ইন্দুরকানী) সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু শুক্রবার বিকেলে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার টগড়া ফেরীঘাটে এ খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
বরিশাল-ঝালকাঠি-ভান্ডারিয়া-পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ৫৩ কিলোমিটারে কঁচানদীর চরখালী-টগড়া পয়েন্টের উভয় পাশে অবস্থিত ডুবোচর খননের (ড্রেজিং) এ কাজ বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং ডিপার্টমেন্ট থেকে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এ আঞ্চলিক মহাসড়কের চরখালী-টগড়া ফেরীঘাটে শুকনো মৌসুমে কঁচানদীর অংশ বিশেষের উভয় পাশে ডুবচর সৃষ্টি হওয়ায় ফেরী চলাচল নাব্যতার অভাবে প্রায়ই ব্যহত হয়। তখন অনেক সময় গাড়ীসহ ফেরী নদীবক্ষে ডুবচরে আটকে যায় এবং দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে। পাশাপাশি নদীর দুই পাড়ে বহু যানবাহন যাত্রীসহ ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে থাকে।
কঁচানদীর এই নাব্যতাহীনতার কবলে পড়ে আন্তর্জাতিক নৌ-পথ বাংলাদেশ-ভারত (অভ্যন্তরীণ) এবং খুলনা ও মংলার সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের নৌ যোগাযোগ অনেক সময় হুমকিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তখন এ পথে চলাচলকারী বিআইডব্লিউটিসি’র রকেট স্টিমার, সরকারি ও বেসরকারি অয়েল ট্যাংকার, কোস্টার, কার্গো, নৌ বাহিনীর জাহাজ, ভারতের পশ্চিম বঙ্গ থেকে মেঘালয় ও আসাম ইত্যাদি নৌ-পথ ব্যবহারে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। কঁচানদীর এই অংশ খনন সম্পন্ন হলে আঞ্চলিক মহাসড়ক ও এ নৌ-পথ ব্যবহারকারী যানবাহন সমূহ সহজে চলাচল করতে পারবে বলে বিআইডব্লিউটিএ’র টেকনিক্যাল এসিস্টান্ট (সিভিল) মিজানুর রহমান সোহেল জানান। তিনি আরও জানান, ৫০০ মিটার দীর্ঘ ও ২৩ মিটার চওড়া এলাকায় এই খনন কাজ করা হবে এবং ৬৫ হাজার ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করা হবে। আগামী এক মাসের এ খনন কাজ সম্পন্ন হবে। বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের আওতায় রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরী খনন কাজ করা হচ্ছে। কাজ সম্পন্ন হলে চরখালী-টগড়া ফেরীঘাট ব্যবহারকারী দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনা, পাথরঘাটা, মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, কাঠালিয়া, পিরোজপুর রুটের যানবাহন চলাচল ক্ষেত্রে সমস্যা থাকবে না। কঁচানদীর অংশ বিশেষের খনন কাজ উদ্বোধন করে জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন মহারাজ, ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমান এডভোকেট, ভান্ডারিয়া উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, জেপি’র কেন্দ্রীয় নেতা ইউসুফ আলী আকন, ইন্দুরকানী উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপি’র কো-আহ্বায়ক ও পাড়েরহাট ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার বাবুল, জেপি’র ইন্দুরকানী উপজেলা সদস্য সচিব মো. শাহীন হাওলাদার, বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা মিজানুর রহমান সোহেল প্রমুখ।
