প্রধান সূচি

স্কুল ছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

পিরোজপুরের নাজিরপুরে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে মোয়াজ্জেম শিকদার (৪৫) নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সেখমাটিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মোয়াজ্জেম শিকদার উপজেলার সেখমাটিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর খানের ভাগ্নে রিফাত আল মামুন (১৬) কর্তৃক ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় ওই ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নাজিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকারিয়া।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ভিডিওটি ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জেম শিকদার ও তার সহযোগীরা রিফাত আল মামুনের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। দাবীকৃত চাঁদা না পেয়ে যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জেম শিকদার গত বুধবার রাতে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ‘১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি’র ভাগ্নের কান্ড দেখুন’ লিখে একটি ২৫ সেকেন্ড ও একটি এক মিনিট তিন সেকেন্ডের ভিডিও আপলোড করেন। ঘন্টাখানেক পরে তিনি ওই পোষ্টটি ডিলেট করলেও ভিডিও দুইটি ম্যাসেঞ্জারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মুর্হুতের মধ্যে ভাইরাল হয়। ঘটনার পর থেকে এ নিয়ে ওই এলাকায় তোলপাড় চলছে।

সরেজমিন জানা যায়, উপজেলার সেখমাটিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর খানের ভাগ্নে রিফাত আল মামুন স্থানীয় একটি স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে তাদের ঘরে নিয়ে যৌন হয়রানী করে। এ সময় যৌন হয়রানীর চিত্রের ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জেম শিকদার ও তার সহযোগীরা রিফাতের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। দাবীকৃত চাঁদা না পেয়ে মোয়াজ্জেম শিকদার তার ফেসবুক আইডিতে ওই ভিডিও আপলোড করে পোষ্ট দেয়।

ঘটনার বিষয়ে কথা হলে রিফাত আল মামুন ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার জন্য সে অনুতপ্ত, তবে কে বা কারা ভিডিওটি ধারণ করেছে সে বিষয়ে তার কিছুই জানা নেই বলে দাবী করে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জেম শিকদার চাঁদা দাবীর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, একটি সত্য ঘটনা আমি পোস্ট করেছি। এখানে দোষের কিছু দেখছি না।

আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর খান বলেন, মেয়ের পক্ষ থেকে যেহেতু কোন অভিযোগ আসেনি, সেহেতু আমার ভাগ্নে নিরাপরাধ। যারা ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়েছে তারা অপরাধ করেছে। মেয়ের পরিবার তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকারিয়া জানান, ওই ছাত্রীর নানার লিখিত অভিযোগের ভিক্তিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামী মোয়াজ্জেম শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial