প্রধান সূচি

নাজিরপুরের ঈদগাহ মাঠ দখল করে মার্কেট নির্মান

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মালিখালি ইউনিয়নের ঘোলারহাটের মসজিদ সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠ দখল করে মার্কেট নির্মান করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় একটি চক্র এ অবৈধভাবে এ মার্কেট নির্মান করছে। এছাড়া উপজেলার তালতলা নদী থেকে জেগে ওঠা চরের সরকারী খাস জমির উপর আরও কয়েকজন অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মান করে করেছেন বলেও জানা গেছে। তাদের কবল থেকে এখনও উদ্ধার হয়নি ঈদগাহ মাঠ এবং হাটের সরকারী সম্পত্তি। এসব ব্যবসায়িক স্থাপনা (মার্কেট ) নির্মান হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতন জনসাধারনের মাঝে ক্ষোভ-অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আসন্ন ঈদের নামাজ দখল হয়ে যাওয়া ঈদগায়ে অনুষ্ঠিত হবে কিনা এ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার যুগীয়া গ্রামে অবস্থিত প্রায় দুই শত বছরের পুরানো ঘোলার হাট বাজার। বহু বছর আগে মৃত প্রিয়নাথ মন্ডলের পূর্ব পুরুষরা এ বাজারের জন্য ৫০ শতাংশ জমি দান করেন। অপরদিকে তালতলা নদীর তীরে দিন দিন চর ভরাট হয়ে বর্তমানে এ জমির পরিমান প্রায় ৪ একরে দাড়িয়েছে। বাজারের পশ্চিম দিকে নদী সংলগ্ন খাল ঘেষে গড়ে ওঠে ঘোলার হাট বাজার জামে মসজিদ এবং ঈদগাহ মাঠ। সম্প্রতি ঈদগাহ স্থলে যুগীয়া গ্রামের মোসলেম সিকদারের ছেলে মহসিন সিকদার দুইটি, সিংখালী গ্রামের মন্নান শেখের ছেলে নাছির একটি এবং যুগীয়ার মৃত পরশ তরুয়ার ছেলে সতীস তরুয়া ১টি ঘর নির্মন করেন। এছাড়া আরও কয়েক ব্যক্তি মিলে দাপট খাটিয়ে ঘোলারহাটের সরকারী সম্পত্তিতে ঘর নির্মন করে সরকারী সম্পত্তি  দখল করে নেয়। স্থানীয়রা এতে বাঁধা দিলে দখলকারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা শক্তির দাপট খাটিয়ে প্রতিরোধকারীদের নানাভাবে হেনস্তা করতে থাকে এবং নতুন করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

ঈদগাহের জায়গা দখল করার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় মৃত মেছের শেখের ছেলে মালেক শেখকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে ছিল দখলকারীরা বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে সেই ঈদগাহ মাঠে টিনশেড পাঁকা ভবন রয়েছে দখলদারদের। ঈদগাহ মাঠ সংস্কারের জন্য বিগত দিনে ১ টন চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছিল। ভূমি দস্যুদের হাত থেকে ঘোলার হাটের জমি উদ্ধার এবং সেখানে রাসেল স্মৃতি খেলার মাঠ বরাদ্ধ পাওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্ধা মো. রুহুল আমীন নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজি আক্তার গত ২৩ এপ্রিল উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। পরে ২৪ এপ্রিল উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ঈদগাহ মাঠসহ বাজারের অন্যান্য সরকারী সম্পত্তি দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত  ৯ জনকে ৩ দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা অপসারনের নোটিশ দেন। কিন্তু বেঁধে দেয়া সময়সীমা পার হলেও দখলকারীরা স্থাপনা সড়িয়ে না নেওয়ায় যুগীয়ার মৃত আঃ ছত্তারের ছেলে শামিম গাজী  অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য গত ৯ মে জেলা প্রশাসক বারাবর আবেদন করেন। এতকিছুর পরও  বাজার থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারন হয়নি। এছাড়া বাজারের মসজিদ সংলগ্ন খাল ভরাট করে হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি পাকা ভবন নির্মান করেছেন।

ঈদগাহ সংলগ্ন ব্যবসায়ী মো. আবু সাঈদ শেখ বলেন, আমরা এখানে ঈদের নামাজ পড়েছি। দখলকারীরা ঈদগাহ দখল করেছে।

ব্যবসায়ী আবুবকর সরদার বলেন, এখানে ঈদদগাহ মাঠ ছিল। যুগীয়ার মৃত ওমেদ আলী শেখের ছেলে সমাজসেবী মো. সামছুল আলম বলেন, এখানে কচুক্ষেত ছিল, মাটি ভরাট করে ঈদগাহ মাঠ তৈরি করা হয়েছে।  ইউএনও অফিস থেকে ১ টন চাল বরাদ্ধ পাওয়া গিয়েছিল।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রুহুল আমীন বলেন, আমি এই ঈদগাহ মাঠে নামাজ পড়েছি। এটা এখন দখল হয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে নাজিরপুর উজেলা ভূমি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যেই একজন তার দোকান সরিয়ে নিয়েছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ঘোলারহাটে কমিটি করা হবে, হাটের উন্নয়ন করা হবে। কেউ ঈদগাহ ও বাজারের সরকারী জমি দখল করে নিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial