ভান্ডারিয়ার ভিটাবাড়িয়ায় ৪০ দিনের কর্মসূচিতে দুর্নীতি
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান (৪০ দিনের ) কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে ভাষ্কর রায়ের বাড়ী থেকে হাশেম হাওলাদার বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা নির্মান কাজের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরের অতি দরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসংস্থান কাজে নারী ও পুরুষ ৬৮ জন শ্রমিক কর্মরত থাকার কথা থাকলেও সেখানে গিয়ে নাম মাত্র ৩৩ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেছে। অনুসন্ধানে যানা গেছে, বাকী ৩৫ জন শ্রমিক কাজ না করলেও তাদের নামে শ্রমিক সরদার আব্দুল কুদ্দুস ভূয়া হাজিরা দেখিয়ে স্থানীয় ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল করিম পান্না’র যোগসাজসে উক্ত শ্রমিকদের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে ভিটাবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. কাইউম জোমাদ্দার।
শ্রমিকদের কার্ড নিজেদের কাছে রাখার বিধান থাকলেও উক্ত সচিব কাইউম শ্রমিকদের কার্ড জোড়পূর্বক আটকে রেখে শ্রমিকদের স্বাক্ষর নিয়ে তিনি নিজে টাকা তুলে ইচ্ছেমত তা বন্টন করছেন। এর আগেও ৪০ দিনের কর্মসূচিতে অংশ নেয়া নারী-পুরুষ শ্রমিকদের মজুরী আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে এ চক্রের বিরুদ্ধে যা সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে আসে। এ ব্যাপারে কর্মসংস্থান প্রকল্পের কর্মসূচির সরদার কুদ্দুসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার জানা মতে অত্র ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে ২০ জন শ্রমিক ও ৬নং ওয়ার্ডে ১৮ জন শ্রমিক কাজ করে এবং বাকী শ্রমিকদের তিনি কখনো দেখেন নি এবং তাদের পরিচয় তার জানা নেই বলে জানান।
এ বিষয়ে ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. কাইউম জোমাদ্দার প্রথমে বলেন ৬৩ জন শ্রমিক রয়েছে পরে কথা ঘুরিয়ে বলেন ৪৩ জন শ্রমিক কর্মসূচিতে কাজ করছে। ৬৮ জন শ্রমিকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পূর্বের তালিকায় ৬৮ জন ছিল, কিন্তু পরে তা সংশোধন করা হয়েছে। জবকার্ড তিনি আটকে রাখেন নি ওই কার্ড সরদারের কাছে জমা আছে।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আওলাদ হোসেন জানান, কর্মসূচিতে যে সব শ্রমিক কাজ করবে তারাই শুধু মজুরী পাবে বলে তিনি জানান। কাজ না করে কেউ মজুরী নিতে পারবে না।
