সংকটে কৃষিসহ দৈনন্দিন কাজ কর্ম
শরণখোলায় স্লুইজগেট বন্ধে পানি শূন্য খাল বিল
বাগেরহাটের শরণখোলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত অধিকাংশ স্লুইজগেট বন্ধ থাকার কারণে চরম পানি সংকটে পড়ছে উপজেলার অধিকাংশ মানুষ। যে কারণে কৃষিসহ দৈনন্দিন কাজ কর্ম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা জুড়ে এমন অবস্থা বিরাজ করলেও সমস্যা সমাধানে তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিযে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের কোল ঘেষে অবস্থিত দেশের সর্বদক্ষিণের উপজেলা শরণখোলার অবস্থান। চর্তুরদিক থেকে বেষ্টিত ৩৫/১ পোল্ডারের বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে ১৯৮৪ সালে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০টি স্লুইজগেট (জলকপাট) নির্মাণ করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। ওই সকল গেইটের মাধ্যমে পানি নিয়ন্ত্রণ করে এ অঞ্চলের জনসাধারণ কৃষি কাজের পাশাপাশি তাদের দৈনন্দিন কাজ কর্মে পানির চাহিদা মিটিয়ে আসছেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে ধীরে ধীরে অধিকাংশ স্লুইজগেট অকেজো হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি উত্তাল ভোলা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেখানে বসতি গড়ে তোলেন স্থানীয়রা। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন রেকর্ডীয় খাল, বিল, নালা, ডোবা দখলদারদের কবলে চলে যাওয়ায় পানির অভাবে এ অঞ্চলের কৃষকদের নিঃশ্বাস বন্ধের উপক্রম হয়ে উঠে। অন্যদিকে, সচল থাকা ২/৪টি স্লুইজগেট থেকে পানি নিস্কাশন হলেও শুষ্ক মৌসুমে খালের মাথা পর্যন্ত তা পৌঁছায় না। এছাড়া পাউবোসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষি বিভাগের তদারকির অভাবে পানির সংকট দিন দিন বাড়তে থাকে।
অপরদিকে, ২০১৬ সালে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৩৫/১ পোল্ডারে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেন চায়নার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। যার ফলে পুরানো গেইটগুলো নতুন করে নির্মাণ শুরু করলে পানি শূন্যতা আরও বৃদ্ধি পায়।
পানি সংকটের বিষয়ে উপাজেলার রাজৈর এলাকার বাসিন্দা কৃষক দুলু তালুকদার বলেন, বেড়িবাঁধের কাজ দীর্ঘ ৩ বছর চলমান থাকায় গেইটগুলো বন্ধ। তাই নদী হতে খালগুলোতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করতে পারছে না। তাই পানির অভাবে চাষাবাদ ও কৃষি কাজের পাশাপাশি দৈনন্দিন গৃহস্থালীর কাজ করতে এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তীর শিকার হচ্ছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে কোন ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া খাল-বিল, ডোবা, নালা ও জলাশয়গুলোতে পানি না থাকায় গত কয়েক বছর ধরে সামান্য কিছু সবজি চাষাবাদ করলেও তার আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায়নি।
এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলমান থাকলে উপজেলার কৃষি ব্যবস্থা বিপর্যের মুখে পড়ার আশংকা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ ব্যাপারে বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের বাংলাদেশের পক্ষে তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী শ্যামল কুমার দত্ত জানান, পুরানো স্লুইজগেটগুলো নতুন করে নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। আশা করা হচ্ছে শীঘ্রই ওই গেইটগুলো উন্মুক্ত করে দেয়া সম্ভব হবে।
পানি সংকটের কথা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকার জানান, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য কিছু স্লুইজগেট বন্ধ করতে হয়েছে। তাই উপজেলা জুড়ে পানির অভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে শীঘ্রই এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হবে।
