প্রধান সূচি

মাদ্রাসা বোর্ডের সার্ভারের তথ্য চুরি ॥ আটকে গেছে ২৩ শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি

ঘটনাটি ঘটেছে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের দারুল হুদা আল গাজ্জালী ফাজিল মাদ্রাসায়। গত চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এসএসসি ও সমমানের (দাখিল) ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ওই পরীক্ষায় উত্তির্ণ ২৩ শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার জন্য অন লাইনে আবেদন করতে গেলে দেশের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই তাদের ভর্তির আবেদন গ্রহন করছে না। কারণ খুঁজতে গিয়েই বেড়িয়ে আসে থলের বিড়াল। শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন ভান্ডারিয়ার আল গাজ্জালী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আবদুল্লাহ মাহামুদ সুকৌশলে মাদ্রাসা বোর্ডের ওয়েবসাইড থেকে ওই ২৩ শিক্ষার্থীর তথ্য চুরি করে তাদেরকে নিজের মাদ্রাসার অনুকুলে তাদের ভর্তির আবেদন অনলাইনে করে রেখেছে।

এদিকে, ভর্তির শেষ তারিখ আগামী ২৩ মে পর্যন্ত। উপায়হীন হয়ে ভূক্তভোগী ২৩ শিক্ষার্থী রবিবার ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল আলমের কাছে দারুল হুদা আল গাজজালী কামীল মাদ্রাসার দুর্নীতির বিষয়ে আলাদাভাবে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ভান্ডারিয়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৯ সালের দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২৩ শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষায় (এইচএসসি ও সমমান) ভর্তির জন্য ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজ, মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনিস্টিটিউট, বরিশাল, খুলনা, ঢাকা, চট্রগ্রামসহ দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে জানতে পারে যে তাদের ভর্তি ইতোপূর্বেই হয়ে গেছে। তাদের অনুমতি ছাড়াই ভান্ডারিয়ার আল গাজ্জালী আলিম মাদ্রাসায় (ইআইএন- ১০২৬৪৪) অনলাইনে ভর্তির আবেদন সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু তারা ভর্তির জন্য আল গাজ্জালী মাদ্রাসায় কোন আবেদন করেন নি। তার পরেও ওই শিক্ষার্থীরা তাদের কোন ভুল হলো কিনা তা জানতে ভান্ডারিয়া উপজেলা সদরের বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে একাধিকবার চেষ্টা করেও অন্য কোন কলেজে ভর্তির আবেদন করতে ব্যর্থ হয়।

এদিকে, পছন্দমত কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করতে না পেরে শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে পড়েছে। কি ভাবে তার আগামী ২৩ মে’র মধ্যে ভর্তি জটিলতা কাটিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য যার যার পছন্দমত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে ভবিষ্যৎ জীবন উজ্জল করতে পারে সে জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ মাহাম্মুদ কোন সদউত্তর দিতে পারেন নি।
এ বিষয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল আলম অভিযোগ পত্রের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, যেহেতু ভর্তির সময় কম। তাই শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পত্রের বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত প্রতিবেদন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হবে।

উল্লেখ্য, দারুল হুদা আল গাজ্জালী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আবদুল্লাহ মাহামুদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে এ ধরনের অনেক জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তাকে কারাগারেও যেতে হয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial