পিরোজপুরে ইমাম সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালককে হুমকি দেয়ার অভিযোগ
পিরোজপুরে ইসলামী ফাউন্ডেশনের গণশিক্ষা কার্যক্রমের ভুয়া কেন্দ্র উদ্ঘাটন ও কয়েকজন কেন্দ্র শিক্ষকের বেতন বন্ধ করায় ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালককে ভূয়া মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা আওয়ামী ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা নাসির উদ্দিন মাতুব্বরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পিরোজপুর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এ কে এম সাদ উদ্দিন পিরোজপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন।
ডায়েরীতে উপ-পরিচালক উল্লেখ করেন, গত ৩০ জানুয়ারী তিনি ইসলামী ফাউন্ডেশন পিরোজপুর জেলা কার্যালয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করে জেলার সদর উপজেলার গণশিক্ষা কার্যক্রমে কিছু নামমাত্র প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করেন। এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের জন্য কার্যক্রমের আওতাধীন সকল শিক্ষকদের নিয়ে একটি সমন্বয় সভা করেন। সভায় উক্ত ভূয়া প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেন এবং অফিস অন্যত্র স্থানান্তরিত করার কথা বলেন। এ খবর মাওলানা মো. নাসির উদ্দিনের জানতে পেরে গত ২ এপ্রিল দুপুরে তাকে এমপির মোড়ে ডেকে নিয়ে বলেন, আপনি নতুন এসেছেন। যে ভাবে আছেন সেভাবেই থাকেন, কোন প্রকার বাড়াবাড়ি করবেন না। আগে এই প্রতিষ্ঠান যে ভাবে চলছিলো এখনও সেভাবেই চলবে। এ প্রতিষ্ঠানের কমিটিতে তার (নাসির উদ্দিন) নাম যে ভাবে আছে সেভাবেই থাকবে এবং অফিস বর্তমান স্থান থেকে স্থানান্তরিত করা যাবে না। এ কথা না শুনলে আমাকে (উপ পরিচালক) ও প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ভূয়া মামলা দিয়ে ফাঁসানোর ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেন।
এ বিষয়ে বুধবার দুপুরে উপ-পরিচালক এ কে এম সাদ উদ্দিন জানান, তিনি যোগদানের পরে সদর উপজেলার গণশিক্ষা কার্যক্রমের চারটি কেন্দ্রের শিক্ষকের বেতন স্থগিত করেছেন। তারা মাওরানা নাসির উদ্দিনের অনুসারী হওয়ায় তিনি (মাওলানা নাসির) ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে এ হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া বর্তমানে ইসলামী ফাউন্ডেশনের অফিসটির নির্ধারিত ভাড়া সরকারি বিধি অনুযায়ী অত্যাধিক হওয়ায় গণপূর্ত বিভাগ নির্ধারিত ভাড়া দেয়া সম্ভব হবেনা বলে জানিয়েছেন। তাই উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশে বেসরকারি বাড়ীতে অফিস সড়ানো হচ্ছে। তাতেও মাওলানা নাসির উদ্দিন বাঁধা দিচ্ছেন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছি।
হুমকির কথা অস্বীকার করে মাওলানা নাসির উদ্দিন মাতুব্বর বলেন, উপ-পরিচালকের সাথে কখনোই এ বিষয়ে কোন কথা হয়নি। তার বিরুদ্ধে থানায় আনীত অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা। কি কারণে তার বিরুদ্ধে থানায় সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে তাও তিনি জানেন না।
