প্রধান সূচি

রমজানকে ঘিরে কদর বেড়েছে সুগন্ধি ও ধর্মীয় বই বিক্রির দোকানে

সংযম ও সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজানকে ঘিরে কদর বেড়েছে পিরোজপুর জেলা শহর এবং জেলার বাইরের অসংখ্য সুগন্ধি দোকানগুলোতে। রমজান শুরু হতে না হতেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সংযমের মাসকে ইবাদতের মাধ্যমে কাটাতে সুরমা, আতর, টুপি, তসবিহ, মেসওয়াক আর জায়নামাজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে ভিড় করতে দেখা যায়। এই কেনাকাটা চলবে ঈদের দিন নামাজের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত। শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই মাথায় টুপি দিয়ে গায়ে খুশবু মেখে নামাজ পড়তে পছন্দ করেন। সে কারণে রোজার শুরুতেই ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন আতর, সুরমার দোকানে। শুধু আতর-সুরমাই নয়, সেই সঙ্গে বিক্রি হচ্ছে জায়নামাজ, টুপি, তসবিহ ও মেসওয়াক। আতর সুরমা কিনতে বেশি দেখা যায় কিশোর ও বয়োজ্যেষ্ঠদের। আতর, টুপি, তসবিহ ও জায়নামাজের দামও বেড়েছে। রমজান মাস উপলক্ষে জেলা শহর এবং শহরের বাইরে হাট-বাজারগুলোতেও অসংখ্য ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে টেবিলে ও র‌্যাকে সাজানো আতর, সুরমা, টুপি পাশাপাশি জায়নামাজ, তসবি ক্রেতাদের ক্রয় করতে দেখা গেছে। আবার বিভিন্ন স্টেশনারী ও পুস্তক বিক্রেতাদের দোকানেও মুসলমান নারী-পুরুষ এমনকি শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় পুস্তকাদী কিনছেন। পিরোজপুর জেলা পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক গ্লোব লাইব্রেরীর সত্বাধিকারী মো. ফারুক হোসেন শেখ বলেন, জেলা শহর এবং শহরের বাইরের দোকানগুলোতে রমজান মাস এলে স্বভাবিকভাবেই ধর্মীয় বইপত্র বিক্রির পরিমান বেড়ে যায়। তবে এ বারের রমজানে কেনা-বেচা কম। শহরের হাতেম আলী সুপার মার্কেটের সাকিল লাইব্রেরীর মালিক পুরাতন বই বিক্রেতা মনিরুল ইসলাম মন্টু বলেন, রমজান মাস আসলে পুরাতন বই বিক্রি কম হয়, কেননা এ সময় অধিকাংশ স্কুল, মাদ্রাসা বন্ধ থাকে। শহরের জেলা পরিষদ মার্কটের এমদাদিয়া লাইব্রেরীর সত্বাধিকারী মো. আবু ইছা  বলেন, পবিত্র রমজান ও ঈদকে উপলক্ষে বিভিন্ন প্রকারের আতর, টুপি, তসবিহ, মেসওয়াক ও জায়নামাজের ব্যবসা করি। আশাকরি অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের কেনা-বেচা ভালো হবে। তিনি জানান, কুমিল্লার টুপি, তসবিহ ও আতরের চাহিদা বেশি। এবার বিভিন্ন ফুলের সুগন্ধের আতরগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে। এসব আতরের তোলা হিসেবে কিনলে অনেক টাকা দাম পড়ে তাই মিলি লিটারের ছোট শিশিতে আতর কেনেন।  প্রতি আতর ২০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এদিকে তুলনামূলক হারে বেড়েছে টুপির দামও প্রতিটি টুপি ১০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা, তসবি ২০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা, জায়নামাজ ১০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা। প্রতিটি মেসওয়াকের মূল্য ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকা। মেসওয়াকের মধ্যে রয়েছে জয়তুন যা শুকনো আর তিলো শুকনো ও কাঁচা হয়। একাধিক দোকানীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাহারি ডিজাইনের টুপিগুলো বাংলাদেশসহ সৌদিআরব, চীন, গুজরাট, মালেয়শিয়ান, পাকিস্তান, ওমান, নেপাল ও প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আসে। দেশী-বিদেশের বিভিন্ন আতর বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দামে। আতর যত পুরনো হয় দাম তত বেশি। দুবাই, ফ্রান্স, সৌদি আরব, কম্বোডিয়া, ভারত, বুলগেরিয়া থেকে বেশি আতর আসে। এছাড়া আল মীম, সুলতান, কেপিপি, স্কয়ার, আলিফ নামের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দেশি আতরও বিক্রি হচ্ছে। আতর ছাড়াও বাহারি ডিজাইনের আতরদানি (বোতল) পাওয়া যায়। কাঁচ ছাড়াও বিভিন্ন ধাতু মিশ্রনে তৈরি এসব আতরদানি বিক্রি হয় ৫০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial