ইন্দুরকানীতে টাকা ছাড়া মিলছে না ভিজিডি কার্ড
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় টাকা ছাড়া মিলছে না হতদরিদ্রদের দেয়া ভিজিডি কার্ড। আর টাকা দিতে না পারায় প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকার প্রতি দুই বছর পর পর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে হতদরিদ্র নারীদের মাসে ৩০ কেজি করে চাল দিয়ে আসছে। আর এ সুবিধাভোগী নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বররা মূল দায়িত্ব পালন করেন। এ উপজেলায় ২০১৯ সালে দুই বছরের জন্য তিনটি ইউনিয়নে ১৪৮৬ জন ভিজিডি উপকারভোগী নির্বাচিত হয়েছে। এরমধ্যে বালিপাড়া ইউনিয়নে ৫৬৯ জন, পত্তাশী ইউনিয়নে ৫৩১ জন এবং পাড়েরহাট ইউনিয়নে ৩৮৬ জন। কিন্তু ভিজিডির নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও দলীয় ব্যক্তিরা তাদের খেয়াল খুশিমত তালিকা করে ভিজিডি কার্ড দিয়েছে। অধিকাংশ লোকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে, আবার কিছু লোকের কাছ থেকে টাকা নেয়নি। তারা দলীয় ও আত্মীয় বিবেচনায় কার্ড পেয়েছে। ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীর অধিকাংশই এ কার্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে টাকা নেয়ার বিষয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য একে অপরকে দায়ী করছেন।
এদিকে, টাকা দিয়ে যারা কার্ড পেয়েছে তারা তাদের নাম প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেন, তাদের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা থেকে তিন হাজার টাকা করে নিয়েছে। উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের সেউতিবাড়িয়া গ্রামের হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী বিউটি বেগম ও আ. মালেকের স্ত্রী পিয়ারা বেগমের কাছ থেকে একই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জয়নাল মল্লিক তিন হাজার টাকা করে নিয়ে কার্ড দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এভাবে অনেককেই টাকা দিয়ে ভিজিডি কার্ড নিতে হয়েছে।
এ বিষয়ে পত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন হাওলাদার জানান, আমি কোন ইউপি সদস্যের কাছ থেকে কার্ডের বিষয় কোন টাকা নেই নি। তবে ইউপি সদস্য জয়নাল মল্লিকের বিরুদ্ধে ভিজিডি কার্ড থেকে সুবিধাভোগীদের কাাছ থেকে টাকা নেয়ার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জয়নাল মল্লিকের কাছে টাকা নেয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি টাকা নেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন আমার ওয়ার্ডের বরাদ্দকৃত ১০ টি কার্ড কেটে নিয়ে নিজের ইচ্ছামত দিয়েছে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নূরে জান্নাত জানান, ভিজিডি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বররা প্রধান ভূমিকা পালন করেন। মৌখিক অনেক অভিযোগ শোনা যায়, টাকা নেয়ার বিষয় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
