পিরোজপুরে ব্যবসায়ীকে মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুই কারারক্ষীর বিরুদ্ধে মামলা
পিরোজপুর শহরের এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে মো. ইরান সরদার (৫৫) ও মো. বাদল (৩৮) নামে দুই কারারক্ষীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উক্ত দুই কারারক্ষী পিরোজপুর জেলা কারাগারে কর্মরত।
সোমবার পিরোজপুর অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালেত মারধরের শিকার ব্যবসায়ী মো. জাকারিয়া খান ইকবাল বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জিয়াউল হককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আবু সালেহ্ মো. ওমান মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে জানান, পিরোজপুর সদর উপজেলার পুরাতন পৌরসভার এলাকার আব্দুল হাকিম খানের ছেলে ব্যবসায়ী মো. জাকারিয়া খান ইকবাল (৩৮) দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিরোধী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। এ কারণে স্থানীয় কিছু মাদক ব্যবসায়ী ইকবালের উপর ক্ষিপ্ত ছিল। সম্প্রতি সরকারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাদক বিরোধী অভিযানে কিছু মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হয়ে জেল হাজতে রয়েছে। আটক মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত কারারক্ষীদের টাকা দিয়ে তার (ইকবাল) উপর হামলার পরিকল্পনা করে। সেই অনুযায়ী গত ৬ জুন শহরের চুড়িপট্টি’র স্কাই সিটি রেস্তোরার সামনে বাদী ইকবালের পায়ের এক যুবক ইচ্ছাকৃতভাবে তার বাইসাইকেল উঠিয়ে দেয়। এসময় সাইকেল চালককে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করতে গেলে তার সাথে সাইকেল চালকের বাকবিতান্ডতার সৃষ্টি হয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেয়া কারারক্ষী ইরান ও বাদল আকস্মিকভাবে বাদী ইকবালের উপর চড়াও হয়ে এলোপাথারী কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এতে বাদী ইকবালের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম হয়। কানের উপরে আঘাতের কারণে কানের পর্দা ফেটে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ইকবালকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে এবং কারারক্ষী ইরান ও বাদলকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে দুই কারারক্ষীকে থানায় নিয়ে যায়। রাতে তাদের পিরোজপুর সদর থানায় আটকে রাখা হয়। পরদিন ৭ জুন পিরোজপুর কারাগারের জেল সুপার তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে থানা থেকে মুচলেখা দিয়ে আটক দুই কারারক্ষীকে মুক্ত করে নিয়ে যায়। পরে জেল সুপার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা ও আপোষ মিমাংশার প্রস্তাব দিলে ইকবাল সে প্রস্তাব মেনে নেয়।
কিন্তু পরবর্তিতে কোন আপোষ মিমাংসা না করে গত ১৩ জুন শহরের দুলালের মিষ্টি ভান্ডারের সামনের একটি গলি থেকে অভিযুক্তরাসহ অজ্ঞাত কয়েকজন ইকবালের উপর আবার হামলা করে তার সাথে থাকা দুই লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায় এবং তাকে ধাক্কা মেরে পাশ্ববর্তী ড্রেনে ফেলে দেয়।
পিরোজপুর জেলা কারাগারের সুপারিটেনডেন্ট মো. শামীম ইকবাল জানান, একটি মিমাংসিত বিষয় নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের ঘটনাটি লোকমুখে শুনেছি। এটি এখন বিচারের বিষয় বিষয়। তাই বিচাররাধীন বিষয় নিয়ে কোন মন্তব্য করবো না।
