প্রধান সূচি

মঠবাড়িয়ায় হাত বাড়ালেই মাদক ॥ গড ফাদাররা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

পিরোজপুর মঠবাড়িয়ায় হাত বাড়ালেই মাদক মেলে। পৌর শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে ১১ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় বিস্তার ঘটেছে মাদকের। উঠতি বয়সের স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা থেকে শুরু করে যুবকরা ইয়াবা, গাজা ও ফেন্সিডিল নামক মাদকে আসক্ত হচ্ছে। মাদক ব্যবসার নেপথ্যে ও পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। স্থানীয় থানা পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে মাদক সেবী ও কতিপয় ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করলেও মুল হোতারা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। পুলিশের তালিকায় শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীর নাম থাকলেও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় রয়েছে ৮ থেকে ১০জন।  পুলিশ আরও দাবী করেছে ইতিমধ্যে ২০/২২ জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

থানা পুলিশের তালিকায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবকরা হল-  মঠবাড়িয়া পৌর শহরের দক্ষিণ এলাকার হাজী সুমন, ইমরান (বর্তমানে জেল হাজতে), রুস্তুম, মিরুখালী টেম্পু স্ট্যান্ড এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গাজা শফিক, বহেরা তলার সবুজ দফাদার, রাসেল খান, মিরাজ (জেল হাজতে) জাফর, সোহাগ হাওলাদার, রাসেল হাওলাদার, সিনেমা হল এলাকার রাজু, দক্ষিণ মিঠাখালী ১নং ওয়ার্ড কালু বেপারী, ছগির, গয়ালীপাড়া নুসরাত শাহী (কিংজল), দক্ষিণ বহেরাতলা টুকু, কামাল বেপারী, সবুজ নগরের শাহাদাৎ, মাসম, সবুজ, শহরের থানাপাড়া এলাকার ইমরান, রনজিৎ মুচি, মহারাজ সরদার ও পৌরসভার নিউমার্কেট এলাকার রুবেল হাওলাদার। তুষখালীর সালাম বেপারী, সুমন জমাদ্দার (উভয় মাদক মামলায় জেল হাজতে), মানিক শরীফ, ইয়াছিন, শাহআলম, শাজাহান, আব্বাস ফকির ওরফে শিশু ফকির. ছোট মাছুয়ার ইব্রাহীম হাওলাদার। ধানীসাফার উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামের জলিল মিয়া, রাজু মোল্লা, সোহেল, ছগির মির্জা, জসীম তালুকদার (জেল হাজতে), ফুলঝুরি গ্রামের কবির মোল্লা, পাতাকাটা গ্রামের এহসানুল হক মন্টু। আঙ্গুল কাটার জাহাঙ্গির শিকদার, আলগী পাতাকাটা গ্রামের জসিম, সাব্বির।

মিরুখালীর ভগিরথপুর বাজার ও মসুল্লিবাড়ি বাসস্ট্যান্ড মাদকের স্পট হিসেবে পরিচিত। ছোট হাড়জির কামরুল। এছাড়াও স্থানীয় গোপখালী সরকারী প্রাইমারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। স্থানীয়দের অভিযোগ ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে ওই শিক্ষকের সাথে স্কুল শিক্ষক স্ত্রীর বিচ্ছেদও ঘটে। দাউদখালীর রুবেল ও আসাদ খান (উভয় মাদক মামলায় জেল হাজতে), বড়হাড়জির বেল্লাল হোসেন হাড়জি নলবুনিয়ার সগির, খায়ের ঘটিচোরা গ্রামের লাইনের পারের দুই সহোদর গাজা স¤্রাট বেল্লাল হোসেন রিয়াজ, নজরুল (বর্তমানে মাদক মামলায় জেল হাজতে)। মঠবাড়িয়ার সদর ইউনিয়নের ইয়াবা ব্যবসার বড় জোন উত্তর মিঠাখালী গ্রাম। এখানের স্থানীয় খোসালের বাড়ি, মাঝের পোল ও গুদিঘাটা নামক স্থান থেকে বিভিন্ন এলাকায় মাদক ইয়াবা ট্যাবলেট চলে যায়। এখানে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ওলি জমাদ্দার, রাজু ফরাজী (জেল হাজতে) রবিন, মামুন, নিজাম (মাদক মামলায় জেল হাজতে), শফিক, জাহিদুল ওরফে নিপুন। বকশির ঘটিচোরার রাকিব, শান্ত, দক্ষিণ মিঠাখালী গ্রামের বাদল মল্লিক, শফিকুল, মামুনসহ আরও অনেকে এ ব্যবসা নির্বিঘেœ চালিয়ে আসছে। টিকিকাটার বাইশকুড়ার শামিম, শাহিন হাং, মিরাজ পেদা, সবুজ হাওলাদার, পশ্চিশ সেনের টিকিকাটার রুবেল, ভেচকি গ্রামের আঊয়াল ওরফে ইয়াবা আউয়াল ও স্বপন জমাদ্দার। বেতমোড় রাজপাড়াএলাকার নিজাম হাওলাদার, মহারাজ হাওলাদার (মাদক মামলায় জেল হাজতে)। আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নে কুখ্যাত জুয়েল ডাকত (মাদক মামলায় জেল হাজতে), পবিত্র সাহা, শামিম, কুলুর হাটের সোহেল, সুমন। সাপলেজার রিয়াজ হাওলাদার, রেজাউল, কালাম, জাবের, মনির। হলতা গুলিসাখালীর টিয়ারখালীর নিজাম, দূর্গাপুরের জহির, গুলিসাখালীর রনি। বড়মাছুয়ার সাইদুল, তপন মিস্ত্রী, আবুল কালাম, দক্ষিণ বড় মাছুয়ার নুর ইসলাম, আলামীন।

খোঁজ নিয়ে  জানা যায়, আইন শৃংখলা বাহিনীর বর্তমানে মাদক বিরোধী অভিযান চলায় অধিকাংশই গা’ঢাকা দিয়েছে।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম ছরোয়ার জনান, শীর্ষ মাদক ব্যাবসায়ী কিছু গ্রেফতার হলেও বাকীরা এলাকায় না থাকায় গ্রেফতার করা যাচ্ছে না।

পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ সালাম কবির জানান, স্থানীয় মাদকের পৃষ্ঠপোষক ও গড ফাদারদের বিষয় তদন্ত চলছে। তদন্তে দোষী প্রমানিত হলে যতই ক্ষমতাধর হোকনা কেন তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial