টেংরাগিরি তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে পিরোজপুরে মানববন্ধন
বরগুনার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সন্নিকটে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে পিরোজপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় টাউনক্লাব সড়কে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে পরিবেশ ও জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এ উদ্যোগ প্রত্যাহারের আহবান জানিয়ে পিরোজপুরের বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগি সংস্থা, সাংবাদিকবৃন্দ, টিআইবি, সনাক এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেয়।
মানববন্ধনে টিআইবি’র পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই বরগুনায় কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে পিডিবি’র বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তাগণ বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত সাংবিধানিক ও আইনি বাধ্যবাধকতাকে সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। আইন ও সংবিধান রক্ষায় সরকার যেখানে অঙ্গীকারাবদ্ধ সেখানে এই ধরনের উদ্যোগ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান পিডিবি’র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি দুর্ভাগ্যজনক। নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও সুখ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক যথাযথভাবে পূর্ণ পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) না করে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর নামে এসব কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে সীমিত বনাঞ্চলকে আরো ধ্বংসের ঝুঁকিতে ফেলে ইতিমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের উপকূলীয় জনগণের জীবন, জীবিকা ও জীববৈচিত্র্যকে আরো ঝুঁকিতে কেন ফেলা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়।
এসময় বক্তাগণ আত্মঘাতি এ উদ্যোগ অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহবান জানিয়ে বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই দেশের দ্বিতীয় সুন্দরবন হিসেবে পরিচিত সংরক্ষিত টেংরাগিরি বন থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে ৩০৭ মেগাওয়াটের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান আইসোটেক ও বিদেশি দুটি প্রতিষ্ঠান। অথচ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৭ এর ৭(৪) ধারা অনুযায়ী, ‘লাল’ শ্রেণীভুক্ত যেকোনো শিল্প স্থাপনে পূর্ণ পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) সাপেক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘পরিবেশ ছাড়পত্র’ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা ছাড়াই এই কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, পরিবেশ আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ধরনের শিল্পকারখানা স্থাপন নিষেধ হলেও তা অমান্য করে একতরফা এ ধরনের উদ্যোগ সরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে দেশের আইনের উদ্বেগজনক লঙ্ঘন।
