প্রধান সূচি

পাইকগাছায় তরমুজের বাম্পার ফলন || কৃষকের মুখে হাসি

পাইকগাছায় লবণাক্ত মাটিতে চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তরমুজের আশানারূপ ফলন পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। পাইকগাছায় ৪১০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত তরমুজ থেকে প্রায় ২৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছে ৩৮ মেট্রিকটন। বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েছে তরমুজের আবাদ। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪১০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

এদিকে অতিতের যে কোন সময়ের চেয়ে চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় অধিক লাভবান হয়েছেন তরমুজ চাষীরা।

সূত্রমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪১০ হেক্টর জমিতে উন্নত ড্রাগন ও পাকিজা জাতের তরমুজের আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে দেলুটিতে ৩৮০ এবং গড়ইখালীতে ৩০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। যা বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুন। অত্র এলাকা তরমুুজ চাষের জন্য সমৃদ্ধ হলেও অতিতের যে কোন বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট চাষীরা জানিয়েছেন। এ বছর হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩৮ মেট্রিকটন। দেলুটির ২২নং পোল্ডারে সৈয়দখালী, কালিনগর, ফুলবাড়ী, হাটবাড়ী, সেনেরবেড় এলাকায় ব্যাপক তরমুজের আবাদ হয়েছে।

তরমুজ চাষী লোচন সরকার, নান্টু বাওয়ালী, মন্টু সরকার জানান, তারা সারা দিন তরমুজ ক্ষেতে ব্যস্তসময় পার করছে। তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। এ ব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যান ও তরমুজ চাষী সমরেশ হালদার প্রায় ৮ বিঘা জমিতে তরমুজের আবাদ করেছে। তিনি জানান, বিগত বছরের থেকে তরমুজের উৎপাদন অনেক বেশি এবং আশানারূপ মূল্য পাওয়ায় তিনি খুশি।

দেলুটি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উদয় কুমার কুন্ড জানান, তরমুজের বীজ বপন করার পর থেকে এই পোল্ডারে তরমুজের ভাল উৎপাদনের জন্য তরমুজ চাষীদের পরামর্শ ও তদারকি অব্যাহত রেখেছেন।

দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, কৃষি বিভাগের সার্বিক তদারকিতে ইউনিয়নের ২২নং পোল্ডারে এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর ভাল ফলন হওয়ায় লবণাক্ত এলাকায় তরমুজ চাষ নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় এ জনপ্রতিনিধি আরও বলেন, ২২নং পোল্ডারের ৫টি ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে ডিহিবুড়া নামে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘের একটি সরকারি খাল রয়েছে। এই খালের পানি দিয়ে এলাকার চাষীরা তরমুজসহ কৃষি ফসল উৎপাদন করে থাকে। কিন্তু খালটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। এ জন্য মৌসুমের শেষের দিকে এসে খালটি শুকিয়ে যায়। ফলে পানির অভাবে তরমুজ চাষ বিঘিœত হয়। খালটি খনন করা গেলে মিষ্টি পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে তরমুজসহ অত্র এলাকার কৃষিতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তরমুজ একটি লাভজনক ফসল, বীজ রোপন থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বাজারজাত করা যায়। উৎপাদন খরচ কম এবং লাভজনক হওয়ায় চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪১০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বিক তদারকি ও সহযোগিতা করায় এ বছর প্রায় ৩৮ মেট্রিকটন তরমুজের গড় উৎপাদন হয়েছে। তবে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক জমি পতিত রয়েছে। আগামীতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা করতে পারলে পতিত জমি গুলোতে আরো বেশি তরমুজের আবাদ করা সম্ভব হবে। উৎপাদন ভাল হওয়ায় একদিকে তরমুজ চাষীরা যেমন লাভবান হয়েছেন তেমনি অন্যান্য চাষীদের মধ্যে তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। ফলে আগামী বছর তরমুজের আবাদ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial