স্বরূপকাঠি কাঠমহলেল ইজারা আদায় নিয়ে
স্বরূপকাঠি পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের দ্বন্দ্ব
স্বরূপকাঠী উপজেলার সন্ধ্যা নদীর শাখা খাল শীতলার মোহনা ও সন্ধ্যা নদীর চরের কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইজারা আদায় নিয়ে স্বরূপকাঠি পৌরসভা এবং উপজেলা প্রশাসনের মুখোমুখী অবস্থানে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে চরের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।
পৌরসভা গত ১৭ বছর ধরে তাদের কাঠ মহাল দাবী করে ব্যবসায়ীদের ইজারা দেয়। অপরদিকে গত পহেলা বৈশাখ থেকে উপজেলা প্রশাসন ওই চরের খাস জমির মালিকানা দাবী করে খাস কালেকশন (খাজনা আদায়) করতে শুরু করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে চরের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে রবিবার পৌরসভা ভবনের সামনে এসে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে।
ইজারা আদায় নিয়ে ওই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রশি টানাটানির জেরে স্বরূপকাঠীর ঐতিহ্যবাহী কাঠ ব্যবসা বন্ধ করার চক্রান্ত হচ্ছে সমাবেশে দাবী করেন ব্যবসায়ী ও কাঠ সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা। চরের ইজারা ব্যবসায়ীদের হাতে না থাকলে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা যে রকান মূল্য সকল অশুভ শক্তি প্রতিহত করবেন বলে সমাবেশে ঘোষণা করেন।
রবিবার সকালে ইজারা সক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান দাবী করে পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী ও চরের শ্রমিকরা মিছিল ও সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, স্বরূপকাঠি পৌরসভার মেয়র মো. গোলাম কবির, কাউন্সিলর রতন দত্ত, জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, কাঠ ব্যবসায়ী কাজী আব্দুস সালেক প্রমুখ।
বক্তব্যে মেয়র পোলাম কবির বলেন, গত ১৭ বছর ধরে পৌরসভার মালিকানায় কাঠমহল হিসেবে ওই চর স্বরূপকাঠি পৌরসভা ইজারা দিয়ে আসছে। সে মতে চলতি বাংলা ১৪২৫ সনেও ব্যবসায়ীদের কাছে চরের কাঠমহল ইজারা দেয়া হয়। প্রশাসনের মধ্যে একটি অশুভ শক্তি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে খাস কালেকশনের নামে কর্মচারীদের মাঠে নামিয়ে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন বলে তিনি দাবী করেন। কাউন্সিলর রতন দত্তসহ অন্যান্য বক্তারা এ ঘটনার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদকে দায়ী করে বক্তব্য রাখেন।
চরের খাস কালেকশন করার বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, নদীর চরের খাস জমি সম্পুর্নভাবে সরকারের। তিনি বলেন নদীর ওই চর হাটের মহল হিসেবে সরকারিভাবে ঘোষিত হয়নি। তাই বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে সরকারি রাজস্ব আদায়ের জন্য খাস কালেকশন করা হচ্ছে।
গত ১৭ বছর ধরে কিভাবে পৌরসভা ইজারা দিয়ে রাজস্ব আদায় করেছে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সেটি আগের কর্মকর্তারা ভাল বলতে পারবেন।
উল্লেখ্য, স্বরূপকাঠির সন্ধ্যা নদীর শীতলার খালের পাড়ে ওই চরের একাংশ গত ১৭/১৮ বছর ধরে স্বরূপকাঠি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পৌরসভা থেকে ইজারা নিয়ে কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছে সাব-লীজ দিয়ে আসছে। ইজারার সাব-লীজ থেকে প্রাপ্ত অর্থ ওই প্রতিষ্ঠান দুইটির উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হতো।
