বাগেরহাটে চারজন রোহিঙ্গাসহ আটক পাঁচ
বাগেরহাটে চারজন রোহিঙ্গাসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহষ্পতিবার সকাল ১১টায় বাগেরহাট শহরের ব্যস্ততম রাহাতের মোড় দিয়ে পুলিশ তাদের আটক করে। আটককৃতরা হলেন, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঠান্ডা মিয়ার ছেলে শুনা আলী (৬৫), শুনা মিয়ার মেয়ে রাশিদা (১৮), আলী হালী ক্যাম্পের আবু তাহেরের মেয়ে মিনারা (১৭), আঃ ছালামের মেয়ে বেবী (১৭) এবং এদের সহযোগী বাংলাদেশী নাগরিক কক্সবাজার জেলার বড় মহেষখালী জাগিরাঘোনা গস্খামের তোফাইল আহমেদের ছেলে মো. ইলিয়াছ (২৮)।
রোহিঙ্গাদের বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন ও আরাকান রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামে বলে পুলিশ সুত্রে জানা গেছে আটককৃতদের বাগেরহাট মডেল থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আটক বাংলাদেশী ইলিয়াস বাগেরহাট মডেল থানায় বসে বলেন, মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার এই তিন যুবতীসহ চারজন নাগরিক বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফের লেদামেকাশি ফটক্যাম্পে আশ্রয় নেন। এখানে তাদের সাথে আমার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্রধরে দুই দিন আগে সোনা আলী ও তার মেয়ে রাশিদা বাংলাদেশ ঘুরে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করে। আমি তাদের নিয়ে বাগেরহাটের হযরত খানজাহান (রহ.) মাজার দেখতে আসি। বুধবার সন্ধ্যায় আমরা মাজার দেখে শহরের একটি হোটেলে উঠি। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ আমাদের ধরে থানায় নিয়ে আসে।
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাতাব উদ্দিন বলেন, বাগেরহাট শহরের রাহাতের মোড়ে ঘোরাঘুরির সময় সন্দেহভাজন তিন নারীসহ মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের মধ্যে তিন যুবতীসহ চারজন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক জানায়। সে দেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে এদেশে এসেছে বলে তারা জানিয়েছে। এসময় তাদের সাথে থাকা এক বাঙ্গালী দালালকে আটক করা হয়। সে এদের সাথে দোভাষি হিসেবে ছিল বলে পুলিশের কাছে দাবি করে। প্রথমে ওই বাঙ্গালি ইলিয়াস তিন রোহিঙ্গা যুবতীকে চেনে না বলে জানালেও পরে সে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বাগেরহাটে নিয়ে আসার কথা স্বীকার করেছে।
আটক চারজন রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের টেকনাফ ক্যাম্পে ফিরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে ওসি জানিয়েছেন।
