প্রধান সূচি

দপ্তরীকে অব্যাহতি দিতে ষড়যন্ত্র

পাইকগাছায় হোগলারচক স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

পাইকগাছার হোগলারচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের দপ্তরী (কাম) নৈশ প্রহরী হীরক জ্যোতি মন্ডলকে চাকুরিতে যোগদানের প্রায় ৬ মাসপর ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে অব্যাহতি দেওয়ার পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে সভাপতির পদত্যাগ ও প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবী করে হীরকের চাকুরি বহাল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ দিন প্রধান শিক্ষককে সারাদিন স্কুলে পাওয়া যায়নি। তিনি অন্যত্র গা’ঢাকা দিয়েছেন বলে জানাগেছে।

সূত্রমতে, উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের হোগলারচক গ্রামের মৃত শেখর চন্দ্র মন্ডলের ছেলে হীরক জ্যোতি মন্ডল গত ১৬/০৮/২০১৭ তারিখে ৭১ নং হোগলারচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী (কাম) নৈশ প্রহরী পদে যোগদান করেন। এ পদে আবেদনকারী ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৪ প্রার্থীর মধ্যে হীরক প্রথম হয়। সেই সূত্রে স্কুলে যোগদানের পর হতে গত প্রায় ৬ মাস সুনাম ও দক্ষতার সহিত দায়িত্বপালন করে আসছে। কিন্তু সভাপতি ডাঃ ফাল্গুনী মন্ডল ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহৃবী রানী যোদ্দারের পছন্দের প্রার্থী না হওয়ায় তারা হীরকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে। ইতোমধ্যে হীরকের বিরুদ্ধে অভিযোগও দিয়েছেন। এমনকি সম্প্রতি সভাপতি প্রধান শিক্ষক যোগসাজস করে তার বেতন ভাতা প্রক্রীয়া বন্ধ রেখে হাজিরা খাতা সরিয়ে রেখে তাকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। হীরককে অব্যাহতি দিয়ে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক কংকন থান্দার নামে এক পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন ষড়যন্ত্রের বিষয়টি জানতে পেরে এলাকার কয়েক’শ বিক্ষুদ্ধ নারী-পুরুষ বৃহস্পতিবার স্কুলের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে সভাপতির পদত্যাগ ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অপসারণ সহ হীরকের চাকুরি বহাল রাখার দাবী জানান। এ সময় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক সকাল থেকেই স্কুলে ছিলো না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্কুলে কর্মরত শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের বিষয়টি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। এমনকি মুঠোফোনেও প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষক বীজলি বর্মণ জানান, গত মঙ্গলবারও হীরক অফিস করেছে। শিক্ষক শ্রাবন্তী রায় জানান, যোগদানের পর হীরক প্রতিদিন নিয়মিত অফিস করেছে। তাকে প্রতিদিন স্কুলে দেখা যেতো বলে স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহান গাজী ও রোকেয়া খাতুন জানায়। এলাকার ইজিবাইক চালক শাহীনুর ইসলাম জানান, বৃষ্টির মধ্যেও হীরককে দায়িত্বপালন করতে দেখেছি। আব্দুল হান্নান জানান, নিয়োগকে কেন্দ্র করে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক স্কুলের উন্নয়নের নামে হীরকের কাছে আর্থিক সহায়তা দাবী করে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। অভিভাবক অপর্ণা রায় জানান, হীরক এতিম, অসহায় ও সহজ-সরল একটি ছেলে, তার বাবাও এই স্কুলের  শিক্ষক ছিলেন। তিনি অনেক দিন স্কুলে বিনা বেতনে কাজ করেছে। তাকে অব্যাহতি দেয়া হলে তার উপর অবিচার করা হবে। প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক পুলিন বিহারী মন্ডল জানান, হীরকের নিয়োগ সঠিক ছিল। কমিটিও তাকে মেনে নিয়েছে। সে গত প্রায় ৬ মাস কর্মরতও রয়েছে। সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের পছন্দের প্রার্থী না হওয়ায় হীরকের বিরুদ্ধে এত ষড়যন্ত্র। সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম শেখ জানান, হীরকযে নিয়মিত অফিস করতো হাজিরা খাতা দেখলে তা পাওয়া যাবে। এ ব্যাপারে সভাপতিকে স্কুলে কিংবা মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার গাজী সাইফুল ইসলাম জানান, হীরকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগের সময় ৩ জন প্রার্থীকে নিয়ে একটি প্যানেল তৈরী করা হয়। প্রথম ব্যক্তি যোগদান না করলে কিংবা চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলে প্যানেলের দ্বিতীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফকরুল হাসান জানান, এ ঘটনায় স্কুল এবং এলাকার পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে এ জন্য আগামী রবিবার উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি সমাধান করার জন্য দিন ধার্য্য করা হয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial