প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠিতে দৈহারী ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ

উপজেলার দৈহারী ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) মোঃ সানাউল হকের বিরুদ্ধে ভুমিহীনদের জমি বরাদ্ধ দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেয়াসহ নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৈয়ারখাল ও চিলতলা গ্রামের ৪৪টি ভুমিহীন পরিবারকে খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়ার নামে দশ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সানাউল হক।

এছাড়াও জমির মিউটেশন, খাজনার টাকা বেশী আদায় করে কম টাকার রশিদ প্রদান, বাজারের ভিটি বরাদ্ধের নামে টাকা নেয়া এবং অর্পিত সম্পত্তির অবমুক্ত করে দিতে তিনি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রতিটি ভুমিহীন পরিবারের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে ভুমিহীনদের নাম অনুমোদন হয়ে আসার পর জমির কবুলিত দলিল করে দিতে আবার পাঁচ হাজার টাকা করে দাবী করছেন ওই কর্মকর্তা। এ ছাড়াও সানাউল হক মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে বেশ কিছু অবস্থাপন্ন পরিবারের নামও ভুমিহীনদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কৈয়ারখাল গ্রামের রবীন্দ্রনাথ মন্ডলের পুত্র রনজিসহ বেশ কিছু অবস্থাপন্ন মানুষ তাদের রেকর্ডীয় জমির সামনের লপ্ত চরের জমি বরাদ্ধ পাওয়ার জন্য সানাউলকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আবার তহসিলদারকে টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় চিলতলা গ্রামের হত দরিদ্র মোঃ হানিফের দখলীয় জমি বেল্লাল হোসেনের নামে বরাদ্ধ দিতে প্রস্তাব করেন তিনি। মাত্র তিন শতাংশ জমির মালিক হানিফ প্রায় ১০ বছর যাবত খাস জমির উপর ঘর তুলে বসবাস করছেন। যদিও কারো কাছ থেকে ঘুষ লেনদেন সহ সকল প্রকার দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন ভুমি কর্মকর্তা মোঃ সানাউল হক।

সরেজমিন গেলে কৈয়ারখাল গ্রামের নিরঞ্জন মন্ডল, পরিতোষ মন্ডল ও রবীন্দ্রনাথ মন্ডলসহ ভুমিহীনরা অভিযোগ করে বলেন, খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়ার জন্য তাদের কাছ থেকে তহসিলদার সানাউল হক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেন। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে কৈয়ারখাল ও চিলতলা গ্রামের ৪৪টি ভুমিহীন পরিবারকে খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়ার জন্য বাছাই করা হয়। তালিকা তৈরী করা থেকে শুরু করে অনুমোদন পর্যন্ত তহসিলদার নানা কায়দায় সানাউল হক ঘুষ নেন । সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে ভুমি বরাদ্ধ প্রাপ্তদের নাম অনুমোদন হয়ে আসে। তারপর কবুলিয়ত দলিল করতে আবার পাঁচ হাজার টাকা করে দাবী করছেন তহসিলদার।

এ ছাড়াও খাড়াবাক গ্রামের শিক্ষক সুখরঞ্জন মন্ডল অভিযোগ করেন অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় থাকা তাদের ওয়ারিশদের জমি অবমুক্ত করে দিতে সানাউল হক ৪০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু প্রায় এক বছর পাড় হয়ে গেলেও তার জমি অবমুক্ত করে দেয়নি। গনকপাড়া গুচ্ছগ্রামে ১৫ বছর ধরে বসবাস করেন স্বামী পরিত্যাক্তা উর্মিলা মন্ডল। তাকে গুচ্ছগ্রামের জমির বরাদ্ধ পাইয়ে দিতে এক বছর আগে ৫হাজার টাকা ঘুষ নেয় সানাউল হক। কিন্তু উর্মিলার কাগজপত্র এখনও ঠিক করে দেয়া হয়নি। উড়িবুনিয়া গ্রামের মনিন্দ্র রায়, ফনি রায় ও ননী রায়ের ৯ একর পৈত্রিক সম্পত্তির খাজনা বাবদ ৮০ হাজার টাকা নেন তহসিলদার। কিন্তু তাদেরকে খাজনার রশিদ দেয়া হয় মাত্র ৫০ হাজার টাকার। এভাবে অসংখ্য ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তহসিলদার সানাউল হক সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নানা যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

এ বিষয় সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ কাওছার হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন আমি মাত্র ক‘দিন আগে এ উপজেলায় যোগদান করেছি। তিনি বলেন সানাউল হকের অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial