প্রধান সূচি

নাজিরপুরে কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বি বদরুল হায়দার

বিষ ও রাসয়নিক মুক্ত খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বদরুল হায়দার বেপারী (৪০)। উৎপাদিত সার বিক্রি করে তিনি মাসে আয় করছেন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।

শুক্রবার উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের চৌঠাইমহল গ্রামে বদরুল হায়দার বেপারীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে দোচালা টিনের ঘর। ঘরের ভিতরে ইট দিয়ে তৈরি সারি সারি হাউজ। এ সময় কথা হয় বদরুল হায়দার বেপারীর সাথে। তিনি বলেন, এসব হাউজে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন তিনি। প্রতিটি হাউজে গোবর, শাকসবজির উচ্ছিষ্টাংশ, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, কচুরীপানা ও কলাগাছ টুকরা টুকরা করে কেটে মিশ্রণ করা হয়। তার মধ্যে ছেড়ে দেয়া হয় কেঁচো। তারপর চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। কেঁচো সার উৎপাদন হতে এক মাস সময় লাগে। বর্তমানে মাসে তার খামার থেকে ৩ টন কেঁচো সার উৎপাদন হয়। প্রতি কেজি সার উৎপাদনে খরচ হয় ৫ টাকা বিক্রি করেন ১৫ টাকায়। খরচ বাদে মাসে আয় হয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। পাশাপাশি কেঁচোর বংশবিস্তারও হচ্ছে। সেই কেঁচো বিক্রি করেও তাঁর বাড়তি আয় হচ্ছে।

কেঁচোর সারের খামার কেন করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে বদরুল জানান, কৃষি নির্ভর এ দেশে কৃষি এবং কৃষকদের নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন তার ছাত্র জীবন থেকেই। স্বপ্ন ছিল ব্যতিক্রম কিছু করার। সে স্বপ্ন থেকেই বিষ এবং রাসয়নিক মুক্ত খ্যাদ্য উৎপাদন নিয়ে ভাবনা। ২০১৩ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার কেঁচো সার উৎপাদনকারী মানিক বর্মাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। ওই প্রতিবেদন পড়ে কেঁচো সার উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেন এবং ওই প্রতিবেদকের মাধ্যমে মানিক বর্মার সাথে যোগাযোগ করে ওই বছরের ২৫ মে ১২ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ২ কেজি কেঁচো দিয়ে খামার শুরু করেন। তিনিই এ উপজেলার প্রথম কেঁচো সার উৎপাদনকারী। খামারে কাজের অবসরে তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের নিয়ে উঠান বৈঠক করে চাষাবাদে বিষ ও রাসয়নিক ব্যবহার পরিহার করে কেঁচো সারা ব্যবহারে উপকারিতা সর্ম্পকে সচেতনতা সৃষ্টি করেন। তার এমন উদ্যোগে এ উপজেলার আরো ৫০টি কেঁচো সার উৎপাদনকারী খামার গড়ে ওঠেছে। তারাও বদরুল হায়দারের মত কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এই সার ব্যবহার করে তারা তাদের জমিতে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছে তা বিক্রি করেও আয় হচ্ছে। এদিকে বদরুলের উৎপাদিত কেঁচো সার স্থানীয় কৃষকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে। সোনাপুর গ্রামের কৃষক সাত্তার মিয়া বলেন, কেঁচো সার ব্যবহার করে আধা বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। এতে মরিচ উৎপাদন কয়েক গুণ বেশি হয়েছে।একই গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর বলেন, কেঁচো সার ব্যবহার করে গোল আলু ও মিষ্টিকুমড়ার চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি।

বদরুল হায়দার বলেন, ‘যে হারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ছে, তাতে ধানের চাষ করেও লাভ হয় না। তাই সল্প মূল্যে উৎপাদিত কেঁচো সার ব্যবহার করলে বেশী লাভের পাশাপাশি আমরা বিষমুক্ত খাদ্য পাবো। কেঁচো সার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল গরুর গোবর, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠাসহ সবকিছু সহজলভ্য। ইচ্ছেশক্তি থাকলে যে কেউ করতে পারে। এক কেজি কেঁচো দিয়ে মাত্র ৪হাজার টাকা বিনিয়োগ করে বছরে ৩৫ থেকে ৪০ হাজাার টাকা আয় করা যায়। সরকারী সহায়তা পেলে বেকার যুবসমাজ কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনে সহায়ক ভুমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার দিগ্ বিজয় হাজরা বলেন, কেঁচো দিয়ে সার উৎপাদনে কৃষকদের সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে রাসায়নিক সারের অতিব্যবহারে জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। পরিবেশ বান্ধব  কেঁচো সার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমেছে। এ সার ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পাবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial