কাউখালী মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
কাউখালী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিনুর বেগমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অসদাচরণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন মহিলা সমিতির সদস্যরা। মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলার বিভিন্ন সমিতির সদস্যরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কাউখালী উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিনুর বেগম স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির জন্য মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের বরাদ্দকৃত অনুদানের প্রতি চেকের বিপরীতে ৪-৫ হাজার টাকা করে রেখে দেন। এককালীন অনুদানের বিপরীতে একইভাবে ৫-৬ হাজার টাকা রাখেন তিনি। সরকারি দিবসগুলো সঠিকভাবে পালন না করে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ করে থাকেন তিনি। ১০ হাজার টাকা ঋণগ্রহণ করলে তাকে ১ হাজার টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে কেউ ঋণ পান না। মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদানে তাকে টাকা না দিলে ভাতা ছাড় করেন না। ভিজিডি সঞ্চয় ফেরত নিতেও তাকে উৎকোচ দিতে হয়। ভিজিডি খাদ্য বিতরণ, পরিদর্শন, পরিদর্শক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রকল্পেও তার স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি আধুনিক পোশাক তৈরি, টেইলারিং ও ব্লক-বাটিক ট্রেনিংয়ের জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে বিনামূল্যে ফরমের বিপরীতে ১০০ টাকা করে গ্রহণ করেন তিনি। অসহায়-দুঃস্থ-নির্যাতিত নারীরা তার কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলে টাকার বিনিময়ে পক্ষপাতিত্ব করেন তিনি।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করা, অফিসে আসা বিভিন্ন সমিতির নারীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিভিন্ন অভিযোগে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন উপজেলার মহিলা সমিতির নেতৃবৃন্দ।
অভিযোগকারীরা হলেন, পশ্চিম বাশুরী মহিলা সমিতির সভানেত্রী জেসমিন বেগম, এসো দেশগড়ি মহিলা সংস্থার সভাপতি মিনারা বেগম, সাধারণ সম্পাদক ফারজানা বেগম, দাশেরকাঠি মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিলুফা বেগমসহ ১৫-২০টি সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তারা মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিনুর বেগম জানান, তিনি সরকারি বিধি মোতাবেক কাজ করেন। এতে কারও কোনো ক্ষতি হলে তার কিছু করার নেই। অফিস না করার অভিযোগ সঠিক নয়। তার বিরুদ্ধে আনীত সমিতির নেতৃবৃন্দের অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
