শুটকি আহরণকে কেন্দ্র করে সাগরে দস্যুদের টোকেন বানিজ্য !
বঙ্গোপসাগরের দুবলার চরে শুটকী আহরণকে কেন্দ্র করে জলদস্যুদের টোকেন বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। দস্যুদের কাছ থেকে “টোকেন অথবা একধরনের কাগজের ওপর সাংকেতিক চিহ্ন” ব্যবহৃত এ স্লিপ সংগ্রহ করে সাগরে নামছেন জেলেরা। আর যেসব জেলেরা এ টোকেন সংগ্রহ করেনি তাদেরকে অপহরন করা হচ্ছে। জেলে মহাজনের কাছে “এক জেলে এক টোকেন” প্রতি সর্বনি¤œ ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপন ধার্য করে দিয়েছে দস্যুরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জেলে মহাজনের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে, সাগরজুড়ে অন্তুত আটটি জলদস্যু বাহিনী এ টোকেন বানিজ্য শুরু করেছে। প্রতি বছর শুটকী মৌসুমকে ঘিরে এসব দস্যুরা তৎপর থাকে। জলদস্যু মোস্তাক, নুর মহাম্মাদ, জোনা, ওহিদ মোল্লা ওরফে বড় ভাই, জুয়েল, সুমন, কিশোর ও ফারুক বাহিনী সাগর এলাকায় সক্রিয় রয়েছে বলেও সুত্র জানায়। প্রশাসনের সতর্ক নজরদারির জাল ছিঁড়ে এ আটটি বাহিনী সাগরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সাতটি বাহিনী সাগরে দস্যুতা করছে। র্যাব-৮ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সোহেল রানা প্রিন্স জানান, এই বাহিনীগুলোই সাগরে উৎপাত শুরু করেছে। এদের মধ্যে বাহিনী প্রধান নুর হোসেন পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেলেও তার বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব দস্যু বাহিনী মূলত যেকোন মৌসুমকে কেন্দ্র করে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তবে তাদের দমনে কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করছে র্যাব। আর টোকেন বানিজ্য অনেক আগ থেকেই হয়ে আসছে, এখনো এই টোকেন বানিজ্য চলছে। এটা বন্ধে র্যাব কাজ করছে।
এদিকে বঙ্গোপসাগরের দুবলা এবং সুন্দরবনের ভদ্রা এলাকা থেকে গত ২৯ অক্টোবর মুক্তিপনের দাবিতে ১০ জেলেকে অপহরন করে জলদস্যু ওহিদ মোল্লা ওরফে বড় ভাই বাহিনী। পরে তাদের মুক্তিপন দিয়ে ছাড়িয়ে আনে তাদের মহাজন শহিদুল সানা এবং বিকাশ।
মৎস্যজীবিদের বৃহৎ সংগঠন দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন জানান, সাগরে সামুদ্রিক মাছ আহরণ ও দুবলার চরে শুটকি আহরনকে কেন্দ্র করে দস্যুদের উপদ্রব শুরু হয়ে গেছে। তিনি জানান, গত ২৭ অক্টোবর দুটি ট্রলারসহ দুই জেলে অপহরন হলে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপন দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনা হয়।
তার দাবি যে দস্যু বাহিনী এই জেলেদের অপহরন করেছে, তার মধ্যে র্যাবের কাছে আতœসর্ম্পন করা দস্যু আব্বাস রয়েছে। আব্বাসের বাড়ি বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নে বলেও জানান তিনি।
জেলে ও মহাজন সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রে মৎস্য আহরণ ও শুঁটকি মৌসুমকে ঘিরে এ বছর ১০-১৫ হাজার জেলে ও মৎস্য আহরণকারী জড়ো হয়েছে সুন্দরবনের দুবলার চর, মেহেরআলীর চর, আলোরকোল, অফিসকিলা, মাঝেরকিলা, শেলার চর ও নারকেলবাড়িয়া চরে।
সুন্দরবন অভ্যন্তরে ছয়টি মৎস্য আহরণ, শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র নিয়ে এ দুবলা জেলে পল্লী।
