প্রধান সূচি

ভান্ডারিয়ার বারেক সফল গাভী খামারী

জেলার ভান্ডারিয়া পৌর শহরের পুর্ব ভান্ডারিয়া গ্রামের দরিদ্র আব্দুল বারেক হাওলাদার দেশীয় গরু পালন করে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূর করে এখন তিনি স্বাবলম্বী। তার সাফল্য দেখে অনেকেই ঝুকছে দেশী গরুর খামারের দিকে। জানা গেছে, একটি বকনা গরু থেকে বর্তমানে তিনি ছোট-বড় ১০টি গরুর মালিক। ইতোমধ্যে তিনি এক লাখ ৬০ হাজার টাকার গরু বিক্রি করে সংসারের কাজে লাগিয়েছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তিনি ভবিষ্যতে একজন সফল খামারি হিসেবে নিজেকে দাঁড় করাতে পারবেন বলে তার বিশ্বাস। এদিকে আব্দুল বারেকের সাফল্যে দেখে তার গ্রামে অনেকে এ কাজ শুরু করেছেন।
সরেজমিন খামার ঘুরে খামার মালিক, তার পরিবার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা পূর্ব ভান্ডারিয়া গ্রামের আব্দুল লতিফ হাওলাদারে ছেলে বারেক হাওলাদার (৫০)। চার ভাই দুই বোনের মধ্যে সবার বড় আব্দুল বারেক এক সময় বেকারত্বের কারণে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। সংসারের বড় ছেলে হিসেবে বাবার সাথে নিজের যেটুকু জমি আছে তাতে ফসল উৎপাদনসহ এমন কোনো কাজ নেই যা তিনি করেননি।
২০১৪ সালে টিভিতে সংবাদ দেখে নিজের পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য ভান্ডারিয়া গরুর হাট থেকে ১২ হাজার টাকায় একটি বকনা বাছুর কিনে পালন শুরু করেন। এক সময় ওই বাছুরটি বড় হয়ে বাচ্চা দেয়। তখন গাভীটি যা দুধ দিত তা থেকে সামান্য কিছু সংসারের জন্য রেখে বাকিটা বাজারে বিক্রি করে পরিবারের খরচ জোগাতেন। এরপর কয়েক বছর কেটে যায়। একের পর এক গরু বাড়তে থাকে। বর্তমানে তিনি ছোট-বড় ১০টি গরুর মালিক। এরমধ্যে দুটি গরু বর্তমানে দুধ দিচ্ছে এবং এই দুধ বিক্রি করেই নিজের সংসার চালাচ্ছেন। এছাড়া তিনি প্রতিবছর গড়ে ৩ লাখ টাকার গরু ও ৩ লাখ টাকার গাভীর দুধ বিক্রি করেন বলে জানা যায়।
বারেক হাওলাদার জানান, ইচ্ছা থাকার পরও নিজে লেখাপড়া করতে পারিনি। বড় মেয়েকে তেমন লেখাপড়া করাতে পারি নি। অভাব অনটনে পরে বিয়ে দিয়ে দিতে হয়। বর্তমানে চার সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে স্থানীয় কলেজে এইচএসসিতে আর ছোট মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেনিতে লেখাপড়া করছে। গোয়ালের গরুগুলো আমার পাশাপাশি স্ত্রী ও ছেলেরা দেখাশোনা করে। গরুগুলোর কোন সমস্যা হলে উপজেলা পশুসম্পদ অফিসের জাকির নামের একজন ডাক্তার এসে দেখে যান। তিনি আরো বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গরু পালনের পাশাপাশি ধান, গম, ভুট্টা, ডাল চাষ করছেন। উন্নত জাতের ৫০টি (ইটালি) হাঁস পালনসহ বাড়ীর পুকুরে তেলাপিয়া মাছের রেনু তৈরি করে বিক্রি করছেন। তাকে কাজে সব ধরনের সহযোগিতা এবং পরামর্শ দিচ্ছেন উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নারায়ন চন্দ্র মজুমদার।
পৌর কাউন্সিলর ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার বলেন, আব্দুল বারেক একজন আত্মবিশ্বাসী লোক। এলাকার বেকার যুবকেরা সফল খামারি বারেক এর মতো উদ্যমী হলে প্রত্যেকেই নিজের কর্মসংস্থান নিজেই করতে পারবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস জানান, আমি বেশ কয়েকবার বারেক হাওলাদারে বাড়িতে গিয়ে তার গরুগুলোর খোঁজখবর নিয়েছি। খামার পরিচর্চায় তাকে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি এবং গরু পালনের জন্য সরকারিভাবে বিভিন্নœ সময় ট্রেনিংয়ে পাঠিয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে আব্দুল বারেককে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

Please follow and like us:


« (পূর্ববর্তি সংবাদ)



উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial